নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, বর্তমানে সিটির নাগরিক সমাজ অত্যন্ত দুরবস্থায় আছে। এই দুরবস্থা থেকে আমরা তাদের রক্ষা করব। যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের একটি ৬০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেব এবং সেই কর্মসূচির মাধ্যমে ন্যূনতম সমস্যাগুলো সমাধান করব। আমি এটাকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে মনে করি এবং নগরবাসীর সকলের সহযোগিতা চাই।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগর ভবনে প্রথমবারের মতো প্রশাসকের চেয়ারে বসে সাংবাদিকদের সাথে একথা বলেন তিনি। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মী ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে মশা নিধন, কারণ সামনে বৃষ্টির মৌসুম আসছে। এই মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। সেখান থেকে মানুষকে বাঁচাতে আমরা মশা নিধন করব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করব এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার করব।
তিনি আরো বলেন, হকার সমস্যা এবং অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের যানজট বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে চরমভাবে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জে। আমরা এটি চিহ্নিত করেছি। এই ৬০ দিনের মধ্যেই এটাকে অন্তত সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করব। হকাররাও আমাদের নাগরিক। তাদের নিয়ে বসে আলোচনা করব কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়। অটোরিকশা ও যানবাহনের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করব।
প্রশাসক বলেন, আগের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ফ্যাসিস্টদের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রশাসক সরকার থেকে কর্মচারী নিয়োগ হলে সাধারণ মানুষের সাথে বা প্রতিটি এলাকার সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ থাকে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেহেতু এই শহরে বসবাস করেন, এই আলো-বাতাসে আমরা বড় হয়েছি। আমরা তা সমাধান করবো।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ধুলাবালি। শহরের ধুলাবালিতে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এই ধুলাবালি পরিষ্কার করে শহরকে অন্তত কিছুটা ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। পাশাপাশি গ্রীন সিটি গড়তে গাছ লাগাব।
তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি আমার কোনো ত্রুটি পান, আগে আমাকে জানাবেন। আমি তা সমাধানের চেষ্টা করব। আমি চাই নাগরিকদের সেবা দিতে। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলাম এবং আমাদের সফল হতেই হবে। সফলতার কোনো বিকল্প নেই। যদি আমি সফল না হই, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সফল হবেন না, আমাদের এমপি সাহেবরা সফল হবেন না।
সাবেক কাউন্সিলরদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সাবেক কাউন্সিলরদের নিয়েও বসব এবং তাদের এই সিটি করপোরেশনের কাজে লাগাব। প্রতিটি ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায় আমাদের দলীয় লোক আছে। তবে এখন দল নয় বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে আমি সমান আচরণ করতে চাই। আমরা সবার প্রতি সমান আচরণ করব এবং সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তন ঘটাব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সচিব মো: নূর কুতুবুল আলম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসূফ খান টিপু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, শাহেনশাহ্, সাবেক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা, দিলারা মাসুদ ময়না, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা।



