নাটোরের নলডাঙ্গায় শুধু লাউয়ের পাতা সিন্ধ করে ইফতারি করছে অসহায় এক পরিবার। অভাব-অনটনের কারণে কখনো শুধু পানি, আবার কখনো শুধু শাক-পাতা অথবা সাদা ভাত খেয়েই সাহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে সেলিনা বেগম ও তার স্বামী সন্তানদের।
পরিবারে সদস্য দুই প্রতিবন্ধী মেয়ে, দুই বছর বয়সী এক ছেলে, অসুস্থ স্বামী, বৃদ্ধ শ্বাশুরি ও সেলিনাসহ মোট ছয়জন। পরিবারের উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
নলডাঙ্গা উপজেলার ৪ নম্বর পিপরুল ইউনিয়নের আঁচড়াখালি গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে গিয়ে দেখা যায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা।
জানা যায়, উপজেলার আঁচড়াখালি গ্রামে দু’বছর আগে এক দুর্ঘটনায় সেলিনার স্বামী মো: জহুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অবস্থায় দুর্দশায় পড়ে যায় তার পরিবার। এরপর থেকেই অভাব-অনাহারে মানবেতর জীবন পাড় করছেন তারা।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা তাদের জীবনকে করে তুলেছে অসহায়। ৬ সদস্যের পরিবারে ঈদে সন্তানসহ অসু্স্থ স্বামী, শ্বাশুরির কাপড় কেনা তাদের কাছে স্বপ্ন।
এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা বলেন, অসুস্থ স্বামী, প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে তারা ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। আগে সেলিনার বাবা খোঁজ নিতো। কিন্তু এক বছর আগে তিনিও মারা গেছেন। এখন তাদের দেখার কেউ নেই। সন্তানরা ভালো খাবার চায়, কিন্তু তার সেই সামর্থ্য নেই। অনেক সময় শুধু পানি, শাকপাতা দিয়েই সাহরি-ইফতার করেন।
সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের পাশে চান এ পরিবারটি।



