লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এবং ছিনতাইকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের জনগণ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপরে শহরের চৌরাস্তায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহরের ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় মানববন্ধনকারীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। তাতে লেখা ছিল— ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘জুয়ায় কোনো লাভ নেই, ধ্বংস ছাড়া পথ নেই’, ‘পাপের টাকায় বিলাসিতা, ধ্বংস করে মানবতা’, ‘রুখব মাদক রুখব জুয়া, গড়ব মোরা নতুন দুনিয়া’ প্রভৃতি।
মাববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, এনসিপি নেতা আনজুম রাজা, প্রেসক্লাব সভাপতি ইফতেখার আহমেদ, বিসমিল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আকবর বিন আফছার প্রমুখ।
এনসিপি নেতা আনজুম রাজা শিলের মাঠের রতন ও হাতকাটা বাবুসহ দু’জন মাদক কারবারির নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি এই মানববন্ধন থেকে বললাম, আজ থেকে সাত দিন পরেও দেখবেন তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। কেনো হবে না তার কারণ সবাই জানেন। এখানে প্রশাসন অবশ্যই জড়িত আছে। তাদের আটক করার কথা বললে তারাই (প্রশাসন) উল্টো আমাদের বলে আপনারা ধরিয়ে দেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম উচ্চারণ করে তিনি আরো বলেন, ‘ইউএনও বললেন, আমরা সব মাদক কারবারির ছবি প্রকাশ করব। তার এই বক্তব্যে সবাই খুশি হয়েছে। কিন্ত দুই-তিনটি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং হয়ে যাওয়ার পর যখন জানতে চাওয়া হলো, তখন তারা আমাদের আইনের ধারা বুঝায়ে বলে এটা আইনের ধারায় নাকি পরে না। এ কারণে আমরা তাদের ধরতে পারব না।’
এর আগে, সোমবার (৩০ মার্চ) দিনে-দুপরে পৌর শহরের একটি গলি দিয়ে যাওয়ার সময় রবিউল ইসলাম নামে এক প্রতিবন্ধীর টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় রাশেল (২৬) নামে এক ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের এ দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাশেলকে স্টেশন এলাকায় লোকজন দেখে চিনে ফেললে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
রাশেল উপজেলার বেংকান্দা গ্রামের ধারা বেচা নুর হোসেনের ছেলে। এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী রবিউলের বোন ছকিরন নেছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক রবিউল গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় জনতা রাশেলকে আটক করে পুলিশকে জানায়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।



