মোকামতলা উপজেলা অনুমোদন, উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী

মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ র‍্যালিতে উৎসবমুখর জনপদ

প্রস্তাবিত মোকামতলা উপজেলার আয়তন প্রায় ১২৮ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং নতুন উপজেলা হিসেবে মোকামতলা উন্নয়নের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

শিবগঞ্জ (বগুড়া) সংবাদদাতা

Location :

Bogura
উপজেলা অনুমোদনে উচ্ছ্বসিত মোকামতলাবাসী
উপজেলা অনুমোদনে উচ্ছ্বসিত মোকামতলাবাসী |ছবি : নয়া দিগন্ত

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার অংশ নিয়ে নতুন ‘মোকামতলা উপজেলা’ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। বহুদিনের প্রত্যাশিত এ ঘোষণায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিকার বৈঠকে নতুন পাঁচটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো- বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর, ময়দানহাট্টা ও শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অংশ নিয়ে গঠিত হবে নতুন এ উপজেলা।

উপজেলা অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মোকামতলায় শুরু হয় আনন্দ উদযাপন। মোকামতলা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ছাত্রদল, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাংবাদিকদের সংগঠন মোকামতলা মডেল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মোকামতলা বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় মোকামতলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি খালিদ হাসান বলেন, মোকামতলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তবতার পথে। এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। আমরা এ সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

মোকামতলা উপজেলা গঠনের দাবির অন্যতম আবেদনকারী সাংবাদিক আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ছিল মোকামতলাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা। আজ সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় একটি অগ্রগতি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

এ বিষয়ে বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মোকামতলাকে উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। সরকার সবসময় জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেয়, এটি তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত মোকামতলা উপজেলার আয়তন প্রায় ১২৮ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং নতুন উপজেলা হিসেবে মোকামতলা উন্নয়নের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।