সৈয়দপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে হত্যার শিকার গৃহবধূ বীথি আক্তারের দাফন শেষে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Saidpur
সৈয়দপুরে বীথির খুনিকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়
সৈয়দপুরে বীথির খুনিকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় |নয়া দিগন্ত

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযুক্ত সাজু খানকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে হত্যার শিকার গৃহবধূ বীথি আক্তারের দাফন শেষে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে হত্যার শিকার গৃহবধূর পরিবারের সদস্য, আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসীসহ সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

এতে ভুক্তভোগীর বাবা বাবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শওকত হায়াত শাহ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আর এ পাপ্পু, কাশিরামবেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নারী সদস্য মমতা বেগম, ওই ইউপির নয় নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বাবু হোসেন, ভুক্তভোগীর আত্মীয় শরিফুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক সাজু খানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন করে সৈয়দপুরকে অচল করে দেয়া হবে।

বক্তারা সৈয়দপুরকে সব ধরনের নৃশংসতা, মাদক, জুয়া, ভিসা প্রতারণাসহ অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, বীথি আক্তার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী সাজু খান একই উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলাম চেল্লুর ছেলে। তারা তিন বছর বয়সি ছেলে আব্দুর রহমানসহ নীলফামারী জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকায় ইকবাল হোসেনের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করতো।

গত ৯ মে রাত ৮টায় সাজু খান স্ত্রী বীথি আক্তারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে আগুন দেখে প্রতিবেশী নাজমিন বেগমের আর্তচিৎকারে লোকজন এসে বীথি আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

পরদিন অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ মে বিকেলে তিনি মারা যান।