বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবকের লাশ ৭৩ দিন পর হস্তান্তর

নিহত হওয়ার ৭৩ দিন পর বিজিবি-বিএসএফের তৎপরতায় ভারতীয় পুলিশ ওই যুবকের লাশ মহেশপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ওবায়দুল হোসেনের (৪০) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত হওয়ার ৭৩ দিন পর বিজিবি-বিএসএফের তৎপরতায় ভারতীয় পুলিশ ওই যুবকের লাশ মহেশপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাশ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

ওবায়দুল হোসেন মহেশপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের হানেফ আলীর ছেলে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মুন্সী ইমদাদুর রহমানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল সকালে ভারতের ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন মহেশপুর বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নকে জানায়, সীমান্তের মেইন পিলার ৪৮-এর কাছে ভারতের মধুপুর এলাকায় একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পড়ে আছে। পরে ভারতীয় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরদিন ২৮ এপ্রিল সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হানেফ আলী যাদবপুর বিওপিতে এসে জানান, তার ছেলে ওবাইদুল হোসেন গত ২৬ এপ্রিল রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। সীমান্তের অপর পাশে যে লাশ পাওয়া গেছে, সেটিই তার ছেলের বলে দাবি করে তিনি বিজিবির কাছে লিখিতভাবে লাশ ফেরতের আবেদন জানান।

ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজিবি বিএসএফের সাথে একাধিকবার চিঠিপত্র চালাচালি ও যোগাযোগ চালিয়ে যায়। টানা দুই মাসেরও বেশি সময় তৎপরতার পর গত ৯ জুলাই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তরে সম্মত হয়। বিএসএফ লাশ শনাক্তের জন্য ছবি ও পরিচয়পত্র চেয়ে বিজিবিকে জানায়।

আজ সকাল ১০টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ চূড়ান্তভাবে লাশ হস্তান্তরের সময় ও স্থান বিজিবিকে জানায়। পরে বিকেলে সীমান্ত পিলার ৪৭/৪-এস-এর কাছে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যদের সাথে লাশটি শূন্যরেখায় নিয়ে আসে। সেখানে ওবাইদুলের বাবা ও সৎমা তার পোশাক দেখে লাশ শনাক্ত করেন।

এরপর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ লাশটি মহেশপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মহেশপুর থানার ওসি (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিজিবির দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে ওবায়দুলের লাশ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে।