গফরগাঁওয়ে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় বিএনপি নেতাসহ আসামি ৪০ জন

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার কার্যালয়ের সামনে কথিত সালিসের নামে নাতিকে মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত বৃদ্ধ নবী হোসেনের (৭০) ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিএনপি নেতা ও উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শামছুল ইসলাম ওরফে ফারুককে প্রধান আসামি করে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার নিহতের ছেলে পাগলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্তসহ বেশির ভাগ আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে নিহতের নাতি মো: রানাকে রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার হাটপাড়া বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে তাকে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে দাদা নবী হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে নাতিকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শামছুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, নির্যাতন বা কথিত সালিসের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে কোনো বিচার-সালিস হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।