সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো: মশিউর রহমান বলেছেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত যাচাই করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে।’
রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার। বিশেষ করে বিশ্বনাথ এলাকায় একটি সেতু ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় জনগণের আপত্তি ও আন্দোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত তাকে অবহিত করার জন্যও নির্দেশনা দেন বিভাগীয় কমিশনার।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশের মতো সিলেটেও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা দেয়ার পাশাপাশি তা যেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনে, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সিলেটে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।’
সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সঠিক তথ্য প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে অবশ্যই সঠিক ও বাস্তব তথ্য দিতে হবে। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে সেটিও যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। ভুল বা অসত্য তথ্য কোনোভাবেই দেয়া যাবে না। কারণ সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কোনো অনুপযুক্ত ব্যক্তি কার্ড না পান এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে।’
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সরকার ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা সফল করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বৃক্ষরোপণকে শুধু সরকারি কর্মসূচি হিসেবে না দেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রত্যেক দফতরকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান বজায় রাখতে হবে।’
সিলেট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দিনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, বাস্তবায়ন অগ্রগতি, আন্তঃদফতর সমন্বয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ দফতরের কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।



