গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে পোস্টমাস্টারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজবাড়ী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিজন কুমার ঘোষ জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে আদেশ দেবেন।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

Location :

Rajbari
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারসহ সাত কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারসহ সাত কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে |ছবি সংগৃহিত

রাজবাড়ীতে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাফতরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারসহ সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কুষ্টিয়া বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো: শহিদুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, তার ভাই পিএলআই অ্যাজেন্ট মাহবুব হাসান মৃধা, অফিস সহায়ক রেজাউল আলম, তৎকালীন ট্রেজারার নাজমুল হাসান, পোস্টাল অপারেটর মো: গোলাম মোস্তফা বাচ্চু ও পোস্টাল অপারেটর প্রণব কুমার সরকার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৬১ জন গ্রাহকের ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের জমা করা মোট ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ঘটনা জানাজানি হলে শিহাব মৃধার মা শিউলী বেগম ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন।

রাজবাড়ী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিজন কুমার ঘোষ জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে আদেশ দেবেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাসরিন আক্তার একটি মামলা দায়ের করলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক মো: হায়দার আলী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। ওই মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ।

অভিযোগ রয়েছে, এ বছরের ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে ঘটনার মূল অভিযুক্ত লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পেলেও তাকে পুলিশে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক। এদিকে ঘটনার মূল পৃষ্ঠপোষক পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে, ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ জানান, ‘অভিযুক্ত শিহাব মৃধা কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী নন, তিনি দৈনিক চুক্তিতে হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতেন। ডাক অধিদফতরের নিয়মানুযায়ী অনেক ডাকঘরেই এভাবে দৈনিক চুক্তিতে কাজ করানো হয়।’