সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি রহ. ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও দোকানকোটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় মোগলাবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন সিলাম শেখপাড়া এলাকার শাহ আব্দুল মান্নান (৬০)। মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মোগলাবাজার থানার ওসি মো: মনির হোসেন।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সিলাম এলাকার চকবাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি রহ. জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য এবং দুইপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
ঘটনায় ইতোমধ্যে লন্ডন বিএনপি নেতা আবেদ রাজার পক্ষ থেকে একটি মামলা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার রাতে শাহ আব্দুল মান্নানের এঘটনায় মোগলাবাজার থানায় অপর মামলা করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিলামের হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি রহ. ওয়াকফ এস্টেট ও দরগাহ জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই ঘটনার দিন জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে রামদা, দা, চাপাতি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে বাদিসহ কয়েকজন আহত হন।
হামলার সময় দরগাহ ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার বাদি সিলামের শেখপাড়া এলাকার শাহ আব্দুল মান্নান আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকায় তার পক্ষে থানায় এজাহার দাখিল করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- ১। আবেদ রাজা (৫০), ২। আহমাদুর রহমান সাদেক (৫০), ৩। আব্দুল হক সুয়েব ওরফে গুল্লি সুয়েব (৫৫), ৪। আরিফুল হক রনি (২৯), ৫। নিজাম আহমদ, ৬। আব্দুস সামাদ (৩১), ৭। সুমন আহমদ (৩৩), ৮। মুজাহিদ আহমদ (৪৫), ৯। রাজু আহমদ (৫০), ১০। জাকারিয়া রহমান বাবু (৩৪), ১১। তামিম আহমদ (২৩), ১২। ফজলু মিয়া (৫০), ১৩। আব্দুল মতিন (৪৫), ১৪। লুৎফুর রহমান বাবু (৪০), ১৫। মোয়াজ্জেম হোসেন লনি (৫৩), ১৬। আজিজ আহমদ জাহেদ (৪২), ১৭। জুবায়ের আহমদ (২৩), ১৮। আব্দুল কাইয়ুম (৩৭), ১৯। সাজ্জাদুর রহমান সাব্বির (২৭), ২০। আলি রুবেল (৩৬), ২১। সাজু মিয়া (৪০), ২২। মো: ফাহাদ ইসলাম ফাহমি (৩২), ২৩। আব্দুল্লাহ আল মারজান (২৪), ২৪। রবিউল আলী রাহাদ (২৫), ২৫। তানভির হোসেন মাহদী (২৩), ২৬। রিপন আহমেদ (২৩), ২৭। কামরান আহমদ (২২), ২৮। মো: খাইরুল আমিন ফাহিম (২৭), ২৯। লতিফুর রহমান মেহেদী (২৬), ৩০। জুবায়েল আহমদ মাসুম (২৪), ৩১। মো: সাহেদ মিয়া (৩৭), ৩২। সায়হামুর রহমান সায়েম (২৫), ৩৩। কামরানুল হক জাকারিয়া (২৫), ৩৪। মাহবুবুর রাহমান (২০), ৩৫। আবু বক্কর (৩০), ৩৬। আব্দুল্লাহ আল মামুন (২০), ৩৭। মুহিবুর রহমান উজ্জ্বল (৩১), ৩৮। শিপু মিয়া (৪৫), ৩৯। সাহেদুল ইসলাম (৩৭), ৪০। সামাদুল হক (২৭), ৪১। সাব্বির (৩৪), ৪২। অনিক আহমদ (২৪), ৪৩। আবুল হাসান সাইফ (১৮), ৪৪। তোফায়েল আহমদ মুহিম (১৯), ৪৫। আবিদ আহমেদ (২২), ৪৬। সলচু মিয়া (৪৫), ৪৭। জামিল মিয়া (৪৫), ৪৮। কবির মিয়া (৪০)।
আসামিদের সবাই শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরো ১০-১৫ জন বহিরাগত অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি রহ. ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২১ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মোগলাবাজার থানার ওসি মো: মনির হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষ দুটি মামলা দায়ের করেছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তিনটি মামলার তদন্ত কাজ চলছে।’
দুইপক্ষে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে বলেও জানান ওসি।



