নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ১০৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া দাবি করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) আবেদন করে আলতাফ হোসেন নিজেই বাতিল হলেন। বর্তমানে তিনি সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১০৩তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সারা দেশের ৭৮ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সারা দেশের ৭৮ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় সোনারগাঁও উপজেলার ৫১ জন রয়েছেন। আবেদনকারী আলতাফ হোসেন প্রজ্ঞাপন তালিকায় ৫৪ নম্বরে রয়েছেন।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আলতাফ হোসেন নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে জামুকায় ১০৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামুকার প্রতিনিধি দল ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর সোনারগাঁও পরিদর্শনে এসে গণশুনানি করেন।
গণশুনানি শেষে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই বাছাই করে আলতাফ হোসেনসহ ৫১ জনের নাম বাতিলের সুপারিশ করেন।
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুনের নেতৃত্বে গণশুনানিতে জামুকার সদস্য মেজর (অব.) সৈয়দ মুহিবুর রহমান, হাবিবুল্লাহ আলম, মেজর (অব.) ফজলুর রহমান, সাদেক আহমেদ খাঁন, মেজর (অব.) আব্দুস সালাম, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা রহমান অংশ নেন।
গণশুনানি শেষে ওইদিন বিকেলে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের বাতিলের আবেদনকারী আলতাফ হোসেন জানান, শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন।
তিনি সব ধরনের প্রমাণপত্র দাখিল করে বিবেচনার জন্য জামুকায় আবেদন করবেন বলেও জানান।



