হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরো গতিশীল করতে নানামুখী উদ্যোগ

দিন দিন ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় এখন এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে পণ্য আসে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ ট্রাক।

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Hakimpur
হিলি স্থলবন্দর
হিলি স্থলবন্দর |নয়া দিগন্ত

ঝিমিয়ে পড়া দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরো গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব করে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত পণ্য খালাসসহ সকল প্রকার পণ্য আমদানির জটিলতা নিরসন এবং ব্যবসায়ীদের সাথে সমন্বয় বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ শুরু করছে কাস্টমস কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। যাত্রা শুরুর পর থেকে ভৌগোলিক কারণে ব্যবসায়ীদের কাছে দিন দিন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবেও পরিচিত লাভ করে বন্দরটি। একসময় এই বন্দর দিয়ে আঙ্গুর, আপেল, কমলা, আম, টমেটোসহ ভিন্ন প্রকার ফল, সাইকেল ও মোটরসাইকেলের পার্টস, বিভিন্ন প্রকার কাপড়, পাথরসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য আমদানি হতো। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন শ’ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে পণ্য নিয়ে এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করতো। দিন দিন ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় এখন এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে পণ্য আসে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ ট্রাক।

হিলি স্থলবন্দরের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক ভালো হওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যকে কেন্দ্র করে হিলিতে গড়ে উঠেছে বিশাল পাইকারী বাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারী ক্রেতারা এই বন্দরে এসে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যগুলো কিনে নিয়ে যায়। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভুট্টা, ভূষি, খৈল, পেঁয়াজ, আলুসহ বিভিন্ন মানুষ ও পশুর খাদ্যপণ্য।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোস্তাফিজুর অভিযোগ করেন, কিছু কিছু পণ্য হিলি বন্দর দিয়ে আমদানিতে কাস্টমসের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে এ বন্দরের আমদানিকারকরা পণ্যগুলো আমদানি করতে পারে না। অথচ ওই পণ্যগুলো অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করে এই বন্দরে এনে বিক্রি করছে। একারণে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমে এসেছে।

বন্দরের আরেক আমদানিকারক রাজেশ পোদ্দার বলেন, ‘পণ্য আমদানি করে ছাড় করতে কাস্টমস অনেক সময় ব্যয় করে। অনেক সময় আমদানিকৃত পণ্য ছাড় করতে রংপুর কমিশনারের কাছে যেতে হয়। ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হওয়ার ফলে এই বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।’

বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন জানান, কায়িক পরীক্ষার নামে কাস্টমসের অতিমাত্রায় কড়াকড়ির নামে পণ্য আটকে হয়রানি, অধিক মূল্যে শুল্কায়ন, ট্রাকে পণ্য তল্লাসির নামে একটা একটা করে কার্টন-বস্তা খুলে মালামাল তছনছসহ নানা জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফলে কমেছে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য।

এদিকে, হিলি স্থলবন্দরের আগের সেই ব্যবসায়ী পরিবেশ ফিরে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে হিলি কাস্টমস কর্মকর্তা, পানামা হিলি পোর্ট কর্তৃপক্ষ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট, আমদানি-রফতানিকারক ও বিজিবি কমকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছে রংপুর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের নতুন দায়িত্ব পাওয়া কমিশনার শফিউর রহমান।

ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনার শফিউর রহমান বলেন, ‘হিলি বন্দরকে একটি ব্যবসাবান্ধব ও গতিশীল বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আইনে যে নিষেধাজ্ঞা নেই এখানে সেই নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসায়ীদের সকল সমস্যার সমাধাণ করা হবে।’

বর্তমানে এই বন্দর দিয়ে চাল, ভুট্টা, ভূষি, আদা, জিরা, এলাচসহ বিভিন্ন ক্যামিক্যাল পণ্য আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে। পক্ষান্তরে ঝুট কাপড়, রাইস ব্রান তেল, বিস্কুট, টোস্ট, ম্যাংগো জুসসহ বিভিন্ন প্রকার ডিঙ্কস রফতানি হচ্ছে ভারতে।