কুমিল্লা বিশ্বিবিদ্যালয়ে সরকারের দেয়া শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির টাকা আত্মসাতের লক্ষে মুঠোফোনে পাসওয়ার্ড না দেয়ায় ডেপুটি রেজিষ্ট্রার মো: মোশারফ হোসনেক অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছে একটি প্রতারক চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০.০১টায় ডেপুটি রেজিষ্ট্রারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে প্রতারক +৮৮০৯৬৩৮৫৭১৬২৮ নাম্বার থেকে কল করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর রেফারেন্স দিয়ে কথা বলে মেধাবৃত্তির বিকাশ পাসওয়ার্ড নেয়ার চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে ডেপুটি রেজিষ্ট্রার পাসওয়ার্ড না দেয়ায় ক্ষেপে প্রতারক তাকে গালমন্দ করে।
দুপুরে ডেপুটি রেজিষ্ট্রার মো: মোশারফ হোসেন তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে উল্লেখ করেন, কিছুক্ষণ আগে জীবনে প্রথমবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রথমে থ্রেট পরে অসভ্য ভাষায় গালাগাল শুনি। শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তির পাসওয়ার্ড না দেয়ার কারণে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আগে পটকারা ফোন করতো মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে। আর এবার সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে। প্রথমে রেফারেন্স পেয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছি। পরে যখন মেধাবৃত্তির আইডির পাসওয়ার্ড চাইলো তখন মতলব বুঝে গেছি। দুই কথা শুনিয়ে দিয়েছি। পরে সে আমাকে তুই-তোকারি করে অসভ্য ভাষায় গালাগাল করলো। ভাবছি, পিএম অফিসের রেফারেন্সে এ পটকাদের ফোনের লোড কয়জনে সামলাতে পারবে? কেউ না কেউ পিএম অফিসকে সম্মান জানাতে গিয়ে পাসওয়ার্ড/ওটিপি নম্বর বলেই দেবে। তাতে বৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হবে শত শত মেধাবী। মেধাবীদের সামন্য কয়টা টাকার প্রতি তাদের এত লোভ লালসা কেন?
কয়েক মাস আগে একই চক্র পাসওয়ার্ড/ওটিপি নম্বরের বিনিময়ে আমাকে এক লাখ টাকা অফার করে। ভাবছি, এদের সিন্ডিকেট কত ভয়ানক!
বাস্তব কথা হচ্ছে, মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বার বার সতর্ক করে বলছে ওভার ফোনে কাউকে যেন ওটিপি/পাসওয়ার্ড দেয়া না হয়। তারপরও এ জাতীয় হাই প্রোফাইল রেফারেন্সের ফোনে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সবাই আরো বেশী বেশি সতর্ক হই। তাহলে পটকারা নিরুৎসাহিত হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্ট্রার মো: মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মেধাবৃত্তির টাকা আত্মসাত হয়নি। প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সকলকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে।’



