নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের টেঁটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী শান্তিনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী শান্তিনগর এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাসেল ও আব্দুল হামিদ পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, দা, রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড, ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ৭-৮টি দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।
সংঘর্ষে আকতার হোসেন (৫৪),নূরুল হক (৫০), ফারুক হোসেন (৪০), রোকসানা বেগম (৩০), তাসলিমা বেগম (৪০), কাউসার মিয়া (৩২), রাবেয়া বেগমসহ(২৮) ১০জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আকতার হোসেন ও নুরুল হক টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হন। টেঁটাবিদ্ধ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহর নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর, পাঁচানী ও খাসেরগাঁও এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে দু’পক্ষ তাদের লোকজন নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে। এর আগেও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হামিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপির হয়ে রাসেলের লোকজন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে।
কোরবানপুর গ্রামের আলী হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার দু’পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ২১ জানুয়ারি তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন তারা। পুনরায় বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এ ব্যাপারে রাসেল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খাঁসেরগাঁও গ্রামের রাজু মিয়া সকালে পাঁচআনি বাজারে গেলে হামিদের লোকজন একা পেয়ে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে তাদের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে । এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
অপর পক্ষের আব্দুল হামিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ পাহারা রয়েছে।



