চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় গভীর রাতে কনটেইনারবাহী লরির যোগে পালানোর সময় পুলিশের উপর হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ রাউন্ড গুলিসহ একটি একনলা বন্দুক (এলজি) উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা থানাধীন সি-বিচস্থ আউটার রিং রোড থেকে শাকিলকে আটক করা হয়।
জানা যায়, গত ১১ আগস্ট গভীর রাতে বন্দর থানাধীন ঈশান মিস্ত্রিরহাট খালপাড় এলাকায় সন্ত্রাসী শাকিলের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসী শাকিলের নেতৃত্বে অন্যরা পুলিশের উপর দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিত আক্রমণ করে। এ সময় তারা ধারালো কিরিচ দিয়ে বন্দর থানার এসআই আবু সাঈদ রানার মাথা, গলা, হাত ও পেটে গুরুতর জখম করে। পরে ঘটনার বন্দর থানায় দুটি মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলাটি তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: ইয়াছিন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, পুলিশের উপর আক্রমণকারী মূলহোতা সন্ত্রাসী শাকিল লরিযোগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাতে বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একাধিক চৌকস টিম পতেঙ্গা থানাধীন সি-বিচস্থ আউটার রিং রোডে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে লরির সামনে হেলপারের সিট থেকে দিদারুল আলমের ছেলে মো: শাকিলকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার দেয়া তথ্যমতে বন্দর থানার ঈশান মিস্ত্রিরহাটস্থ খালপাড় ‘স’ মিলের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর হতে তার অপর সহযোগী আশরাফ আলীর ছেলে মো: আরিফ হোসেনকে (৩২), গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় গ্রেফতার আসামি মো: আরিফের দখল থেকে ১টি লোহার কিরিচ এবং সন্ত্রাসী শাকিলের দেখানো মতে পরিত্যক্ত টিনশেডে লুকানো অবস্থায় ১টি দেশীয় তৈরি এলজি (একনলা বন্দুক) ও ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরো জানায়, ধৃত শাকিলের বিরুদ্ধে ডিএমপি ও সিএমপি’র বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা চেষ্টা, মারামারি ও চুরিসহ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ৯টি মামলা রয়েছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



