দোয়ারাবাজারে মাছ চাষের পুকুর গিলে খাচ্ছে ৫ গ্রামের চলাচলের সড়ক

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্থ এই সড়কটি দিয়ে ইসলাসপুর, রাজানগর কাউয়াঘর, শিমুলতলা ও গিরিশনগর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
চলাচলের সড়ক গিলে খাওয়া পুকুর
চলাচলের সড়ক গিলে খাওয়া পুকুর |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর-ইসলামপুর সড়কটি স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাছ চাষের পুকুরে বিলিন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্থ এই সড়কটি দিয়ে ইসলাসপুর, রাজানগর কাউয়াঘর, শিমুলতলা ও গিরিশনগর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সড়কের দু’পাশে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করায় সড়কের প্রায় ২২ ফুট অংশ ভেঙে পুকুরে বিলিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর খননের কারনে সড়কের দু’পাশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এক বছর আগে হাওর অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থা ইরা’র অর্থায়নে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনঃসংস্কার করা হয়। পুনরায় ২৫ ফুট প্রশস্থ করে রাস্তার সংস্কার কাজ করা হলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তা ভেগে তিন ফুট অবশিষ্ট রয়েছে।

বর্তমানে দু’পাশের পুকুরে রাস্তা ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে বাড়িতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ গাড়ি যেত। বর্তমানে হেটে চলাচল করতে হয় আতঙ্ক নিয়ে। গাড়ি চলাচলের উপযোগী না থাকায় জরুরি রোগি নিয়ে আমরা চরম দূর্ভোগে পড়েছি। সড়কের দু’পাশে পুকুর আর সকড়টি ছোট হয়ে যাওয়ায় ছেলে মেয়েরা স্কুলে আসতে পারছে না। বিশেষ করে বর্ষায় লেখাপড়া বন্ধ থাকে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের।’

জহির উদ্দিন বাবুল শহিদ মিয়া, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল মন্নান, রাজিব মিয়াসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, পুকুরে রাস্তা ধসে যাওয়ার কারণে এখন একটি মোটরসাইকেল নিয়েও বাড়িতে যেতে পারছি না। পুকুর মালিকদের একাধিকবার বলা হলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পুকুরে পরিণত করেছে। এই রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনকে ও একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কর্ণপাত করেনি কেউ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়া বলেন, ‘পুকুর মালিকরা প্রভাবশালী হওয়াতে কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করেনি তারা। পাঁচ গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা পুকুরে বিলিন হওয়ার পরেও টনক নড়েনি পুকুর মালিকদের। গত বছর ১৩ লাখ টাকায় ইরা এনজিও সংস্থা সংস্কার কাজ করায়। তাও বছর না ঘুরতেই আবারো পুকুরে বিলিন হয়। নিজেদের চলাচলের অসুবিধায় বাধ্য হয়ে দু’দিন আগে পুকুর মালিকদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মৎস কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।