আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘দুর্নীতি বন্ধে কোনো দফতর প্রধান ব্যর্থ হলে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সাথে যুক্ত হলে তাদের শুধু চাকরিই যাবে না, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও দুর্নীতির মামলা করে জেল হাজতে নেয়া হবে। কারণ আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছি। দুর্নীতির মামলার অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কড়াইগন্ডায় বুঝে নেয়া হবে। কেউ যদি এক পায়-পয়সা কমিশন বাণিজ্যও করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উন্নয়নমুলক কাজের কোয়ালিটির ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। যদি কেউ সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ নিম্নমানের করে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যদি কেউ কমিশন বানিজ্য ও চাঁদাবাজী করতে চান, তবে আপনারা আমাকে জানাবেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মুলে সরকার ও বিরোধীদল এক সাথে কাজ করবে।’
তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের উদ্দেশে বলেন, ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে আপনাদের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কোন দফতর এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন তবে ওই দফতরের প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা করা হবে।’
তিনি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে শৈলকুপা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্লাকলিস্ট করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরণের অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আগামীতে যাতে কোনো কাজের কন্ট্রাক্ট না পায় সে ব্যবস্থাও নেয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি নির্বাচন পেয়েছি, একটা সরকার পেয়েছি। জুলাই শহীদদের অমর্যাদা হয় বা তাদের আত্মা কষ্ট পায় এমন কোনো কর্মকাণ্ড এই সরকার বরদাশত করবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মউৎসর্গকারী ও আহতদের অমর্যাদাও মেনে নেয়া হবে না।’
গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা জড়িত তাদের আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ধর্ষণের মতো অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি ও যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।’
এছাড়া তিনি বিচারক সঙ্কট, মামলাজট ও জুডিসিয়ারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বিদ্যমান সমস্যা আইনের আওতায় সমাধান করা হবে বলে মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য আলী আজম মো: আবু কবর, সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



