চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হুমাইরা খাতুন নামে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মৃত হুমাইরা মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের মেয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলায় এটাই প্রথম হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা।
তিনি বলেন, ‘শিশুটির নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে তা পজিটিভ আসে, অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে হাম রোগেই আক্রান্ত ছিল সে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল জ্বর, ফুসকুড়ি ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হুমাইরা খাতুনকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষায় তার শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ২৩ এপ্রিল তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়। কিন্তু পরদিন সকালেই হঠাৎ করে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জেলায় হাম সংক্রমণ নিয়ে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হাম আক্রান্ত অথবা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। তাই সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।



