নাটোরের নলডাঙ্গায় মাদক ও জুয়ার নেটওয়ার্ক মূলত স্থানীয় প্রভাবশালী মাদককারবারি, সিন্ডিকেটের হোতা এবং কিছু অসাধু ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যারা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির আশ্রয় নিয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে এদের ছত্রছায়ায় থাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা তাদের স্বজনদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে আসে। মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করলেও নীরব থাকে প্রশাসন।
সরোজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাদক ও জুয়াতে কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করে। এই মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে আরো অনেক ধরনের অপরাধও সংঘটিত হয়ে থাকে। মাদককারবারিদের সিন্ডিকেটের মধ্যে প্রায়শই বিবাদ লেগে থাকে। অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন, আবার সহজে জামিনও পায়। তবে মাদক মাফিয়ারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে প্রভাবশালী নেতা এবং কথিত দালাল চক্রকে মাসোয়ারা দিয়েও চলছে জুয়া ও মাদককারবারি। মাদক সরবরাহ করছে এখন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এবং অনলাইন জুয়ার লিডাররা।
স্থানীয়রা জানায়, ট্রেনেসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে মাদক। মাদক বিক্রিরও নির্দিষ্ট সময় থাকে। আর যেকোনো সময় কিনতে চাইলে ফোন দিতে হয়। আধা ঘণ্টার মধ্যেই চলে আসে মাদক। নানা নামে বিভিন্ন মাদকের নামকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সাংকেতিক নামেও মাদক সরবরাহের অর্ডার দেয়া হয়। এখানে মাদকের মধ্যে আছে হিরোইন, ইয়াবা। এ ছাড়াও বিক্রি হয়, বাংলা মদ (চুয়ানী), ফেনসিডিল, গাঁজা। এই মাদককারবার নিয়ন্ত্রিত হয় কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তাদের অনেকেই রাজনীতির সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত এবং তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে মাদককারবার সক্রিয় রাখা হয়।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক মো: উজ্জল হোসেন জানান, শিশু-কিশোরদের বিপথগামী করছে মাদককারবারিরা। এসব কারবারির কারণে প্রায় ঘরে আজ অশান্তির আগুন জ্বলছে। দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদককারবারিরা। তাই মাদক ও জুয়া ব্যবসা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত আছে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’
জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও নাটোর-নলডাঙ্গা আসনের এমপি-অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টোলারেন্স। মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’



