ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় জেসমিন আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাভার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জেসমিন আক্তার সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কালিপোড়া গ্রামের কামাল মিয়ার মেয়ে। প্রায় ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয় একই গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে শরিফ মিয়ার (৩২) সাথে। তাদের সাত বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর শরিফ মিয়া প্রায় এক বছর আগে ঋণ নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় যান। সেখান থেকে তিনি নিয়মিত স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ করছিলেন জেসমিন।
এদিকে, স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিবেশী মোতালেবের ছেলে আল-আমীনের (৩৫) সাথে জেসমিনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরিবার জানার পর একাধিকবার বাধা দেয়া হলেও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আল-আমীনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
পরিবারের দাবি, তিন দিন আগে গভীর রাতে আল-আমীন জেসমিনের ঘরে প্রবেশ করলে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আল-আমীন। এরপর থেকেই জেসমিনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।
নিহতের ছেলে সোহাগ জানায়, সোমবার ভোরে আল-আমীন একটি রামদা নিয়ে তাদের ঘরে এসে তার মাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পর জেসমিন তাকে দাদির বাড়ি থেকে মাছ আনতে পাঠান। ফিরে এসে মাকে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে, তিনি ঘরের আড়ার সাথে ফাঁসিতে ঝুলছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমীন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নান্দাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



