নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার

অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মরহুম শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলায় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী মাদরাসা শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় অভিযুক্ত হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী সাগরকে (৩০) আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর র‌্যাব-১৪ -এর সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান এ খবর নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মরহুম শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলায় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক।

ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের একমাত্র মেয়ে সন্তান। শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

তিনি আরো জানান, কিছুদিন থেকে শিশুটির মা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাদরাসা ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষকের আদেশে ঝাড়ু দিয়ে মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা পরিষ্কার করতে থাকে। সে মুহূর্তে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা নেত্রকোণা জেলার মদন থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও আলোচিত হয়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। র‌্যাব-১৪ এ চাঞ্চল্যকর মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল মেজর ইসতিয়াকের নেতৃত্বে বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার সোনামপুর এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামিকে নেত্রকোনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গ্রেফতার সাগর ঘটনার পর পালিয়ে গিয়ে প্রথমে গাজীপুর এবং পরে টঙ্গীতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে গৌরীপুর চলে আসে। সাগর মোবাইল ব্যবহার না করায় তার গতিবিধি লক্ষ্য রাখা সম্ভব হয়নি। পরে আরো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে তার অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাগর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত দোষী শনাক্ত হবে।’

মেয়েটির চিকিৎসককে হুমকি দেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘যারা চিকিৎসককে ট্রল করছে তাদের নজরদারি করা হচ্ছে। চিকিৎসকের নিরাপত্তার ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর রয়েছে।’

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম সংগীয় ফোর্স নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে যান। তিনি পরিবারটিকে আইনি সহায়তা এবং নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। সে সাথে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।