দাগনভূঞায় স্কুলশিক্ষার্থীদের উপর উঠে গেল বাস, নিহত ১

পরে স্থানীয়রা কাঠবোঝাই একটি হিউম্যান হলারের সাহায্যে বাসটি উপরে তোলে। তখন বাসের নিচ থেকে শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তারের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে অন্তত ছয়জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা

Location :

Feni
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়া বাসটি
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়া বাসটি |নয়া দিগন্ত

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস স্কুলফেরত শিক্ষার্থীদের উপর উঠে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ছয়জন।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে সিলোনিয়া হাই স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত স্কুলশিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার চাঁনপুরের জালাল মিকার বাড়ির মো: হানিফের মেয়ে। সে সিলোনিয়া হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী থেকে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছিল হ্যাপি ট্রান্সপোর্ট নামের একটি বাস। এদিকে সিলোনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলশিক্ষার্থীরা ছুটির পর তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বের হয়। এ সময় বৃষ্টির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপর উঠে উল্টে যায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা কাঠবোঝাই একটি হিউম্যান হলারের সাহায্যে বাসটি উপরে তোলে। তখন বাসের নিচ থেকে শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তারের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে অন্তত ছয়জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। তারা হলো— উত্তর আলামপুর গ্রামের মাইনুদ্দিনের মেয়ে রাইসা আক্তার ও নূর নবীর মেয়ে নুসরাত জাহান। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস এবং চালককে আটকে রাখেন এবং বাসটি ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া থানা পুলিশ ও হহাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে সিলোনিয়া হাই স্কুল মাঠে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

দাগনভুঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করি। নিহত ও আহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: রোকন-উদ-দৌলা বলেন, আমাদের এখানে ছয়-সাতজন রোগী শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজুরি অবস্থায় এসেছিল। তার মাঝে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে আমরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে রেফার্ড করি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।