ঢাকার ধামরাইয়ে বংশী নদীতে নোঙর করা একটি বালু তোলার ড্রেজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া মালামাল ও মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি দেশীয় পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধামরাই থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান।
গ্রেফতাররা হলেন মো: মাহাতাব হোসেন (৫২), মো: কামাল হোসেন (৫০), জয়নাল আবেদীন (২৮), আবির হাসান ওরফে আপ্পা (২৪), আরকান ওরফে আলিফ ইসলাম ছোটন (২৪) ও মনা খান ওরফে মনির (৪৫)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও ঢাকার আশপাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে থেকে এই অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় বংশী নদীর তীরে নোঙর করা একটি ড্রেজারে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে ১২ থেকে ১৩ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেন। ডাকাতরা রামদা, পিস্তল, বন্দুক ও কাটারসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ড্রেজারের ওপর উঠে পড়েন ও সেখানে কর্মরত চারজন স্টাফকে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে ড্রেজার থেকে দু’টি ভারী ব্যাটারি, একটি ওয়েল্ডিং মেশিন, দু’টি গ্রাইন্ডিং মেশিন, বৈদ্যুতিক তার, চারটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ সর্বমোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে ট্রলারযোগে নদীর উত্তর দিকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ড্রেজার মালিক মোস্তফা সাইদুজ্জামান ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা জেলা, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকার একটি শিপইয়ার্ডের পাশে আবাদি জমি ও ইটের স্তূপের কাছ থেকে মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তা ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি লোহার কাটার, চারটি শাবল, তিনটি ক্র্যাকার, পাঁচটি ধারালো হাসুয়া, একটি কাচে, দুইটি দা ও একটি র্যাত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’



