কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ধসের পর ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) ভোররাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো— বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনিয়া কাটা পাহাড় এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে তৌসিফ উদ্দিন (১৩) ও একই এলাকার কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৪)। তৌসিফ ওই এলাকার সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে বসতঘরের ওপর। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ওই দুই শিশু মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মাটি সরিয়ে মাটির নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করে এবং ততক্ষণে তারা দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছিল।
এ ঘটনায় একই এলাকার আব্দুল জলিলের স্ত্রী ও কন্যা আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তিনি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একইসাথে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিংসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গত পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার শত শত গ্রাম তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বন্যায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় চকরিয়া উপজেলার কাকারা, ফাঁসিয়াখালী, বরইতলী, কৈয়ারবিল, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী; মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, বদরখালী, সাহারবিল, ভেওলা মানিক চর, খুনাখুলী, ডুলাহাজারা ও বমু বিলছড়ি এবং পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, টৈটং ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সড়ক ও বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে অসংখ্য গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে রান্না করতে না পারায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সঙ্কট। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনো বন্যার পানির নিচে রয়েছে। এসব এলাকায় এখনো সরকারি কোনো সহায়তা পায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। একইসাথে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্যও সতর্ক করা হচ্ছে।



