ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কির্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ শহরের পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার দুপুরে থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় চপলকে আদালতে হাজির করে। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন আনিসুজ্জামান চপলকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গত দেড় বছর কীর্ত্তিপাশার সর্বস্তরের মানুষ চপলের চাঁদাবাজি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। থানার এসআই আসাদুল আল গালিব জানান, বিএনপি নেতা চপলের বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। তাকে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কীর্ত্তিপাশা বাজারে এই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতা আকাশ বেপারীসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর চপলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের আরো কয়েকজন নেতাকর্মীকেও তখন মারধর করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মী মো. সবুজ বেপারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে চপলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের আহ্বানে জুমা-পরবর্তী দোয়ার কর্মসূচি থাকলেও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকায় এই কর্মসূচি ঘিরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়। নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনার সূত্রপাত। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হচ্ছে।



