সাভারে ছয় মাসে ৬ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভবঘুরে মেন্টাল সম্রাট

১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ের এক মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সিসি ক্যামেরা দেখে রোববার জোড়া হত্যার ঘটনায় আসামি মেন্টাল সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন
সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

ঢাকার সাভারে ছয় মাসে ছয় হত্যাকাণ্ডে মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে মেন্টাল সম্রাট নামের এক ভবঘুরে যুবক জড়িত বলে দাবি পুলিশের।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে মেন্টাল সম্রাটকে। দুপুরে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।

এর আগে, রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে সাভার থানার সামনে থেকে ভবঘুরে যুবক মেন্টাল সম্রাটকে গ্রেফতার করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার মরহুম সালামের ছেলে। তিনি সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সম্রাট ভবঘুরে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরিবর্তী পরিস্থিতির পর সে দীর্ঘদিন পুলিশের পোশাক পরে লাঠি হাতে চলাফেরা করতো এবং নানা উল্টাপাল্টা কথা বলতো। প্রায় সাত মাস আগে সে সাভার পৌর এলাকার মডেল মসজিদের পাশে আসমা নামে এক বৃদ্ধাকে প্রথমে খুন করে। এরপর ২৯ আগস্ট রাতে সে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে হাত-পা বেঁধে এক যুবককে হত্যা করে। এরপর ১১ অক্টোবর রাতে আবারো সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ের এক মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সিসি ক্যামেরা দেখে রোববার জোড়া হত্যার ঘটনায় আসামি মেন্টাল সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় পুলিশ সুপার আরো বলেন, আসামি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতার সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে মডেল মসজিদ সংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় ছাড়া বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী ও ওসি (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।