বাঘারপাড়ায় ৫ বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ

পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ। এতে রাস্তায় চলাললে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

Location :

Jashore
রাস্তার বেহাল দশা
রাস্তার বেহাল দশা |নয়া দিগন্ত

ইকবাল কবির, বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর পার হলেও একটি সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ইটের খোয়া বিছানো রাস্তায় সাধারণ যানবাহন চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে তেমনি পায়ে হাটারও উপায় নেই। উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলাতিকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সীমাখালী আরএইচডি নারিকেলবাড়ি জিসি সড়কের পাঠানপাইকপাড়া ও ক্ষেত্রপালা গ্রামের অংশে ১,২১০ মিটার রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম কন্সট্রাকশনকে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী এ কাজের কার্যাদেশ প্রদান করে একই সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। কাজ সমাপ্তের তারিখ ছিল পরের বছরের ৩১ মে। ২০২১-২২ অর্থ বছরের এ কাজের নির্মাণ ব্যয় ছিল এক কোটি ১৬ লাখ চার হাজার ৭১৮ টাকা।

বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশল দফতরের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের সাথে এ কাজের চুক্তি হয় এক কেটি ১০ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকায়। সড়কের এ অংশে আগে দুই স্তর বিশিষ্ট ইটের সলিংয়ের রাস্তা ছিল। এ কারণে সড়কের পুরাতন ইটের দাম ধরা হয়েছিল ৩৮ লাখ এক হাজার ৬৫৬ টাকা।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে সড়কে ইটের খোয়ার কাজ (ম্যাকাডাম) শেষ হয়েছে। ছয় ইঞ্চি ম্যাকাডামের কোথাও কোথাও তিন ইঞ্চি খোয়া নেই। অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

খানপুর স্লুইচ গেটের পাশের চায়ের দোকানদার লিটন খান জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ঠিকাদার রাস্তার ম্যকাডাম করেছেন। এ সময়কালে কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হয়েছে।

একই গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ বিমল শর্মা জানান, আগে ইটের সলিংয়ের ওপর দিয়ে হাঁটতে পারতাম। এখন সে উপায়ও নেই।

পাশের ক্ষেত্রপালা গ্রামের ভ্যান চালক আসাদুজ্জামান জানান, আগে ভ্যানে একটা টায়ার লাগালে প্রায় বছর পার হয়ে যেত। এখন ছয় মাসও পার হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ইটের খোয়ায় টায়ার ছিদ্র হয়ে যাচ্ছে।

বন্দবীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খাঁনের বাড়ি পাঠানপাইকপাড়া গ্রামে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ানকে অসংখ্যবার বলেছি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করে রি-টেন্ডার করতে। তিনি কোনো কথার কর্ণপাত করেননি। সম্প্রতি তিনি অন্যত্র বদলি হয়েছেন। নতুন প্রকৌশলী যোগদান করেছেন। এখন যদি সুরহা হয়।’

নবাগত বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী জুলহাস খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানামাত্রই কাজের উদ্যেগ নিয়েছি। সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, আসলেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সময়মত কার্পেটিং না হওয়ায় বেশিরভাগ খোয়া উঠে গেছে। এখন কাজ করতে বেশি টাকা লাগবে। এখানে সরকারি অর্থের খানিকটা অপচয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশের প্রাক্কলন করা হয়েছে। রি-টেন্ডারের জন্য জেলা অফিসকে দ্রুত চিঠি দেয়া হচ্ছে। একইসাথে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থ্যও নেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম কন্সট্রাকশনের মালিক বাদল হোসেনের সাথে একাধিকবার মুঠোফেনো যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহাম্মেম মাহাবুবুর রহমান জানান, বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।