চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় সিহাব মিয়া (২০) নামে বিদেশগামী এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সিহাব চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ গ্রামের মামুনের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মেকানিক।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিহাব সম্প্রতি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একই এলাকার ইমান আলীর ছেলে ইমরান তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে সিহাব ফুটবল খেলার উদ্দেশ্যে ইজিবাইকযোগে উজিরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফকিরপাড়া মোড়ে পৌঁছালে ইমরান তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক ইজিবাইক থেকে নামিয়ে নেয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইমরান দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি) বের করে সিহাবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত সিহাবের দাবি, “সপ্তাহখানেক আগে ফোন করে ইমরান আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে—‘তুই তো বিদেশে যাবি, আমাকে টাকা দিয়ে যা।’ আজ বিকেলে খেলার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় সে আমাকে আটকে পেছন থেকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।”
সিহাবের দাদি অভিযোগ করে বলেন, “আমার নাতি বিদেশে যাচ্ছে জেনে ইমরান ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। টাকা না পেয়েই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এভাবে কোপানো হয়েছে। ইমরানের বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ রয়েছে।”
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, সিহাবের বাম হাতে ধারালো অস্ত্রের দুটি গভীর ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।
হামলার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো অবহিত নন।



