সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও শেষ হয়নি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। ফলে আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ২১টি প্রকল্পের জন্য তিন কোটি সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ উদ্বোধন করে সংশ্লিষ্ট দফতর। শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি।
নির্ধারিত সময় শেষ হলেও মার্চ মাসের ৪ তারিখেও অধিকাংশ বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
পাউবো সূত্রে আরো জানা যায়, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫টি পিআইসির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে আরো ৬টি বাঁধের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সুরমা ইউনিয়নের ১৭ নম্বর পিআইসির কাজ এখনো বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও শুরু হয়নি বাকি বাঁধের কাজ।
স্থানীয়রা ধারণা, কাজ শেষ না করেই দেখানো হতে পারে প্রকল্প। যার কারণে শুধু বাঁশের আঁড় বান্ধার মাধ্যমেই কাজ সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এছাড়া অনেক বাঁধে নির্ধারিত উচ্চতা বজায় না রাখা, কোথাও দায়সারাভাবে মাটি ফেলা ও প্রকল্প এলাকায় নিয়ম অনুযায়ী সাইনবোর্ডও না টাঙানোর অভিযোগও হয়েছে। অধিকাংশ বাঁধে ঘাস লাগানোসহ আনুষঙ্গিক কাজ বাকি।
যদিও সংশ্লিষ্ট দফতর বলছে, তুলনামূলকভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলায় বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে। অসম্পূর্ণ বাঁধের কাজ দু’একদিনের ভেতরে শেষ হবে।
কৃষকরা জানান, সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকির অভাবে কয়েকটি বাঁধে এখনো মাটির কাজ শুরু হয়নি। কাজ সম্পূর্ণ হওয়া বাঁধগুলোতে ঘাস না লাগানো হতে পারে।
বাঁধে ঘাস না লাগালে প্রথম বৃষ্টিতেই বাঁধ ধসে পড়বে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার হাওরগুলো অকাল বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু তাহের মিসবাহ অভিযোগ করেন, ‘অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হলেও অনেক প্রকল্পে কাজ শেষ হয়নি। তদারকিতে গাফিলতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের অবহেলার কারণে এখনো অধিকাংশ বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। ফলে আগাম বন্যায় ফসর রক্ষা নিয়ে উপজেলার কৃষকরা শঙ্কায় রয়েছেন। আমরা ঊর্দ্বতন দফতরে এ নিয়ে প্রতিবেদন দিব।’
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী (বাপাউবো) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন জানান, ‘১৭টি প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পে মাটির কাজ বাকি থাকলেও প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু’একদিনের ভেতরে শেষ হবে। বাঁধগুলোতে ঘাস লাগানোর কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো জানান, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় কাজের একটু দেরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প কমিটির আহ্বায়ক অরুপ রতন সিংহ জানান, ‘প্রথম ধাপের ১৫টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ঘাস লাগানোর কাজ চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে আরো ৬টি প্রকল্প বাড়ায় সেগুলোর কাজ দেরিতে হচ্ছে।’
দ্রুতই অসম্পূর্ণ বাঁধের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদেরকে বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।



