নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিস্তা সেচ খালের সংস্কার ও পরিদর্শন সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয়রা পরিদর্শন সড়ক ও খালের ডাইকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজীব ব্রিজের কাছে পরিদর্শন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে এ অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাত দিয়ে টান দিতেই পরিদর্শন সড়কের পিচ উঠে আসছে। তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচখালের বাম ডাইকে ০ কিলোমিটার থেকে ৬.৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পরিদর্শন রাস্তা মেরামত ও বগুড়া সেচখালের ০ কিলোমিটার থেকে ৬.৩০ কিলোমিটার উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজ করা হচ্ছে। এসব কাজ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়ে এখনো চলছে। পরিদর্শন সড়কে নিম্নমানের কাজ ও উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণে সেচ খালের বেড এবং একয়ারভুক্ত জমি হতে মাটি তুলে লুটপাটের চেষ্টায় মরিয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচখালের বাম ডাইকে (০ কিলোমিটার হতে ৬.৩৭ কিলোমিটার) পরিদর্শন রাস্তা মেরামত কাজ (প্যাকেজ নম্বর-সৈয়দপুর/পরিদর্শন-রাস্তা-১) জামাল হোসেন নামে ঠাকুরগাঁওয়ের ঠিকাদারকে এক কোটি ৩৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা দরপত্র মূল্যে ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুন কাজ সমাপ্তের পত্র দেয়া হয়।
অপরদিকে, বগুড়া সেচখালের ০ কিলোমিটার হতে ৬.৩০ কিলোমিটার উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজ (প্যাকেজ নম্বর-সৈয়দুপুর/বগুড়া সেচখাল-০১) ঢাকার নিয়াজ মনা জেভি নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ছয় কোটি ৬৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা দরপত্র মূল্যে কাজটি ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর সমাপ্তের শর্তে ২০২২ সালের ছয় জানুয়ারি কার্যাদেশ দেয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়া সেচখালের বাম ডাইকে ০ কিলোমিটার হতে ৬.৩৭ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামত কাজ স্থানীয়রা হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে পিচ ও পাথর। নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্বের রাস্তার ধুলো পরিষ্কার না করেই তার উপর পিচ ঢালাই করা হয়েছে। ফলে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় কয়েকদিনের মধ্যে পিচ উঠে আসছে। হাত দিলেই পাথর উঠে আসছে। অপর দিকে উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজটি সেচ খালের বেড হতে মাটি তুলে বাঁধে দেয়া হয়েছে এবং একয়ারভুক্ত জমি হতে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ডাইকে দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, আমরা নিম্নমানের কাজ চাই না, আমরা শতভাগ কাজ চাই। লুটপাট ও নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন হুমকি দিচ্ছে।
এসময় বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী, আব্দুল মজিদ, সেকেন্দার আলী, নাজমুল হক, রুপালী বেগম, মকবুল হোসেন, সোনা বাবু প্রমুখ।
মধ্যরাজিব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, দায়সারা কাজেই যেন তাদের কাজ। নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর দিয়ে পরিদর্শন সড়ক করা হয়েছে। দেখেন হাত দিলেই পিচ উঠে আসছে। আমরা ভালো মানের কাজ চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বলেন, আমরা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের হুমকি দেয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করলে তারাও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
কেতা মামুদ বলেন, উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজটি যেন দুর্বলকরণের কাজে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাতের অন্ধকারে সেচখালের বেড হতে মাটি তুলে ডাইকে দিয়েছে। একয়ারভুক্ত জমি থেকে মাটি কেটেও ডাইকে দেয়। তাই ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজটি দুর্বল কাজে পরিণত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা পরিদর্শন সড়কে নিম্নমানের কাজ, খালের মাটি কেটে ডাইকের দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও কাজের শতভাগ গুণগতমানের দাবি জানান।
সাব ঠিকাদার বাসু দেব জানান, ডাইক শক্তিশালীকরণে ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তিনি ডাইক শক্তিশালীকরণে একয়ারভুক্ত জমি ও খালের বেডের মাটি কাটার কথা অস্বীকার করেন।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান ও সহকারী প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসানের ফোনে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার কল দেয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।



