বিআরটিসিসহ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

রংপুরে যাত্রীদের সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রীরা মডার্ন মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং কয়েক মাইল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো
বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে রংপুর শহরের মডার্ন মোড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ
বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে রংপুর শহরের মডার্ন মোড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ |নয়া দিগন্ত

বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে রংপুর নগরীর প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড়ে অবরোধ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছেন হাজারো যাত্রী। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকার সঙ্গে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রীরা মডার্ন মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং কয়েক মাইল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা পুলিশের সাব-কন্ট্রোল রুমের সামনেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রের দাবি, বিআরটিসি রংপুর ডিপোর কিছু কর্মকর্তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এর আগে মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন।

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার নির্ধারিত ৮৭০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে রাত সোয়া ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

অবরোধে অংশ নেয়া যাত্রী আলিমুল ইসলাম, মাহজাবিন আলম ও কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত ৮৭০ টাকার ভাড়া আদায়ের পরিবর্তে ২০০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছিল। সকাল থেকেই এ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল, যা পরে বিক্ষোভে রূপ নেয়।

কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেন, “আমাদের আয়ের সঙ্গে এত বেশি ভাড়া দেয়া সম্ভব নয়। সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।”

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহন তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে বিপুল অর্থ বাণিজ্য করছে।

তবে একটি সূত্র জানায়, বিআরটিসি রংপুর ডিপোর কিছু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদেই যাত্রীরা সড়কে নেমেছিলেন। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি এবং নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, “নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘটনাস্থলে থাকব। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, “সরকারি পরিবহন বিআরটিসির অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।”