‘শেখ হাসিনা আসতে চাইলে দেশে তার জন্য হাজার হাজার ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে’ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিসি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, ‘আপা কোথায় আসবেন? আপা তো হেলিকপ্টার নিয়ে চলে গেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো জায়গা নাই আপার ফিরে আসার। তবে আপা যদি আসতে চান, যেখানে আপা নামবেন সেখানেই তাকে ধরে জনগণ ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ঘরে ঘরে গরু লালন-পালন করি, সেই গরুর দড়ি শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত আছে।’
সোমবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরে জেলা এনসিপি আয়োজিত ‘বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জুলাই জাগরণ’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
এতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, এনসিপির কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, আহনাফ সাঈদ খান, কিশোরগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তাড়াইল এনসিপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মাসুদ।
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো অনেক মুজিবপ্রেমী, টকশোকার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আছেন, তারা সরকারের নমনীয়তার সুযোগে স্বপ্ন দেখছেন ডিসেম্বরে নাকি তাদের আপা আসবেন। তাদের আপা যেখানে নামবেন, সেখানেই সাথে সাথে তার ফাঁসি বাস্তবায়ন করা হবে। এক সেকেন্ডও দেরি করা হবে না।’
সমাবেশে মাদক সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত চায় বাংলাদেশের যুবসমাজ ইয়াবা ও ফেনসিডিলের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকুক। তাই দলটি এসব মাদকে আমাদের দেশ সয়লাব করে দিচ্ছে। তারা মাদক দিয়ে আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিতে চায়, আমাদের দেশের বাজার দখল করতে চায়। বিএনপির বড় বড় নেতার গাড়িতেও মাদক পাওয়া যায়। তাদের অনেকে ভারতের টাকায় রাজনীতি ও নির্বাচন করেন। আমরা সরকারকে বলতে চাই, মাদকের বিরুদ্ধে আইন করেছেন; আমরা বলব, প্রথমে সংসদে যেসব এমপি রয়েছেন, সংসদে ঢোকার আগে তাদের ডোপ টেস্ট করতে হবে। আগে সেখান থেকে শুরু হওয়া দরকার। সংসদের অধিকাংশ এমপি মাদক চোরাচালান ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা ফেনসিডিল ব্যবসার সাথে জড়িত। আমরা সরকারকে বলব, মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে। আমরা সবাই ছাত্রদল নই যে সারাদিন মাদক নিয়ে পড়ে থাকব। আমরা যুবদল নই যে রাতের বেলায় গাজা বেচব। আমরা সেই সব বিএনপির লোক নই যে রাতের বেলায় ফেনসিডিল বিক্রি করব। আমরা দেশের সব মাদকের স্পট ধ্বংস করতে চাই।’
পাটওয়ারী বলেন, ‘সীমান্ত হত্যাসহ নানা বিষয়ে আমরা সংসদে কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু তারেক রহমানের দল এ বিষয়ে সংসদে কথা বলতে দেয়নি। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান ভারতসহ মুজিবপ্রেমীদের পাত্তা দেয়ায় ভারত আমাদের ওপর বন্দুক তাক করার সাহস পায়। আমরা তারেক রহমানকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—সাবধান হয়ে যান, সময় এখনও আছে। যদি সাবধান না হন, জনতা পঙ্গপালের মতো আপনার অফিসের দিকে যাবে। আপনাকেও শেখ হাসিনার মতো পালাতে হবে। বাংলাদেশে স্থায়ী ঠিকানা হবে না। বাংলাদেশে যারা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তারা সুটকেস নিয়ে বাসায় যেতে পারেননি। যারা ক্ষমতায় গিয়েছেন, তারাই ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছেন।’
কিশোরগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যদি দিল্লিতে না পালান অথবা থানায় আত্মসমর্পণ না করেন, তাহলে পাড়ায় পাড়ায় আওয়ামী প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখন থেকে পাড়া-মহল্লায় তাদের খুঁজে বের করে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে। ওই ওসি যদি তাদের ছেড়ে দিতে চান, তবে সেই ওসিকে আপনারা পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখবেন।’
বক্তব্যের শুরুতে পাটওয়ারী কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তারেক রহমান কিশোরগঞ্জবাসীর ওপর ‘ফজু পাগলা’ নামে এক গজব চাপিয়ে দিয়েছেন। এই কিশোরগঞ্জে এখনো কিছু বিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে। তাদের মুখপাত্র হিসেবে এই ফজলুর রহমান কাজ করছেন। তারেক রহমান কিশোরগঞ্জবাসীকে উদ্ধার করুন। এই শীর্ষ মুজিব সন্ত্রাসী ফজলুর রহমান থেকে তাঁদের বাঁচান। এই সন্ত্রাসীর জ্বালায় জেলাবাসী অতিষ্ঠ। জেলাবাসীর মান-ইজ্জত চলে যাচ্ছে। উনারা তাকে বর্জন করতে চান। আপনি অন্য কাউকে দিন, তবুও এখানকার মানুষকে উদ্ধার করুন।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি সরকার সবকিছু দলীয়করণ করছে। সরকারের যত সুযোগ-সুবিধা, তা কেবল তাদের দেয়া হচ্ছে যারা ধানের শীষে ভোট দেয়। অন্যরা বঞ্চিত হচ্ছে। সবকিছু যদি দলীয়করণ হয়ে যায়, তাহলে বিএনপির নাম থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটা বাদ দিয়ে দিতে হবে। বিএনপির বর্তমান স্লোগান ‘সবার আগে বিএনপি’ আগে বাদ দিতে হবে। তারা দেশবাসীর সাথে প্রতারণা করছে; এ প্রতারণার ফল তাদের ভোগ করতে হবে।’
তাড়াইলের সমাবেশের পর রাতে এনসিপি করিমগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ সদরে সমাবেশ করেছে।



