সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার হাওরাঅঞ্চলকে কেন্দ্র করে বোরো ফসল ফলানো কৃষকদের দুশ্চিন্তা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। যেখানে বোরো ফসলই এই উপজেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পুরো বছরের খাদ্য উৎপাদনের প্রধান ভরসা। এই বোরো ফসল ঘরে তুলতেই আবার রাত জেগে ঘুম বিসর্জন দিতে হয় তাদের। নির্ঘুম রাত কাটিয়েও সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে থাকতে হয় দুশ্চিন্তায়। পৌষে বীজতলা আর বৈশাখে সোনালি ধানের স্বপ্নে বুক বাঁধা হাওরপারের বেশিরভাগ কৃষক পরিবার আবার বোরে ধানের চারা রোপন থেকে শুরু করে ধান ঘরে তুলা পর্যন্ত হাওরে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে বসবাস করে থাকেন। কিন্তু জীবিকা নির্বাহের সেই একমাত্র অবলম্বন ফসল রক্ষায় উপজেলার হাওরগুলোতে চলমান ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ের একমাস অতিক্রম হয়ে গেলেও বাড়েনি কাজের অগ্রগতি। এতে হতাশায় ভুগছেন হাওর পাড়ের অধিকাংশ কৃষক পরিবার।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজে প্রতি বছর সরকারের ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকা। তবে অনিয়মের কারণে অধিকাংশ বাঁধেই পানি আসার আগে ধসে যায়। ফলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন বেশি হতে কৃষকদের।
উপজেলা পাউবো কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর পানির প্রভাব কম হওয়ায় অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত রয়েছে। ফলে এবছর উপজেলায় ১৫টি বাঁধের প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৪৭টি। গত ১৫ ডিসেম্বর এসব বাঁধের কাজ উদ্বোধন করে সংশ্লিষ্ট দফতর। শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ উদ্বোধনের ৩৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি বাঁধে এখনো কাজের অগ্রগতি বাড়ানো হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নিরাপদে ফসল ঘরে তুলতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। অথচ এই বাঁধ নিয়েই বেশি চিন্তিত হতে হয় কৃষকদের। মাটির পরিবর্তে বালু আর নিয়মবহির্ভূত ভাবে কাজ করায় তা লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয় জানিয়ে কৃষকরা বলেন, পাউবো কমিটির খামখেয়ালিপনা আর সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকির অভাবে সঠিক সময়ে যদি বাঁধের কাজ সম্পন্ন না হয় তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করা আর পানিতে ভাসানো একই।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পাউবো কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সবকয়টি বাঁধেই কাজ চলছে। একটি বাঁধের কাজ দু-একদিনের ভেতরে শুরু হবে।’
সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।



