বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সম্পদের কোনো অভাব নাই। দেশে সম্পদের অভাব থাকলে গত ১৬ বছরে ২৭ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হতো না। অভাব শুধু সৎ ও যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্বের। ৫৪ বছর দুনীতিবাজরা দেশ শাসন করেছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে তারা। বিগত সরকার সমস্ত ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায় তাহলে সর্বপ্রথম দুনীতি বন্ধ করব। বাংলাদেশের দুনীতি বন্ধ করলে অর্ধেকের বেশি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা দুর্নীতি করি না, দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। বাংলাদেশে দুর্নীতি বন্ধ করলে দেশ শুধু সিঙ্গাপুর নয় এর চেয়ে অনেক উন্নত হবে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নীলফামারী-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতীফের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা গেলে দ্বিতীয় যে কাজটি করবে তা হলো মুসলিম প্রধান এ দেশে যাকাতে আইন চালু করবে। প্রতি বছর যদি ঠিক ভাবে যাকাত আদায় করা যায় তাহলে ৫০ হাজার কোটি টাকা যাকাত আদায় করা সম্ভব। এক সম্পন্নভাবে দুর্নীতি বন্ধ দুই যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি চালু। এই দুটি কাজ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা বিগত ৫৪ বছরে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গলকে দেখেছেন কী দাঁড়িপাল্লার লোকদের কখনো ক্ষমতায় দেখেন নাই। সকল দলকে দেখা শেষ একবার দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে দেখেন আমরা কোনো পরিবর্তন করতে পারি কিনা।’
তিনি বলেন, ‘একটি দলের নেতা বলে বেড়াচ্ছেন তাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, জামায়াতের অভিজ্ঞতা নাই। ‘হ্যাঁ’ আমাদের অভিজ্ঞতা নেই তা হলো দুর্নীতি করার।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমাদের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন। সকল মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হয়েছে কি? এই তিনটি মন্ত্রণালয়ে একটি টাকারও দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। অতত্রব এই দুই মন্ত্রী যেমন যোগ্য ছিল তেমনি সততার সাথে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে প্রমাণ করেছে দুর্নীতিপরায়ণ না করে মন্ত্রণালয়কে কত সুন্দর করা যায়। আমরা যদি দেশ সেবার সুযোগ পাই দেশকে একশত ভাগ দুর্নীতি মুক্ত করতে পারবো, ইনশা-আল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘একজন নেতা বলছেন- তিনি দেশ থেকে পালাইনি। যিনি ১৭ বছর দেশ থেকে পালিয়ে দেশে আসলেন তার মুখে এসব কথা শোভা পায় না। তিনি মিথ্যুক, তিনি অসত্য কথা বলেছেন। যিনি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে অসৎ কথা বলেন তিনি ক্ষমতায় গেলে যে ওয়াদা করছেন তার একটি ওয়াদাও পালন করবেন না। অথচ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা মৃত্যুর ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়নি। বরং হাসি মুখে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন। নিজে সুখে থাকার জন্য বিদেশে থাকার চেষ্টা করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিবারতন্ত্র দিয়ে গণতন্ত্র বিকাশিত হয় না। আমরা চাই মেধাতন্ত্র। মেধা ও যোগ্যতা যার থাকবে সেই দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিবে। পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। পরিবারতন্ত্র দিয়ে এদেশের জনগণের কোনো কল্যাণ হয়নি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। যারা ইতিমধ্যে চাঁদাবাজ হিসেব চিহ্নিত হয়েছে তাদের ভোট দিলে দেশ পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্ররা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ছাত্র-জনতা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিনিধিকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।’
নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির ও নীলফামারী-২ আসনের পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন- নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, সদর উপজেলা আমির আবু হানিফা শাহ, শহর শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান আযাদ, ঢাকসুর পরিবাহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ সহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।



