নাটোর সদর উপজেলার ছাতনি ইউনিয়নের মদনহাট এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শরীফুল ইসলামের (৪৫) সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে নাটোর সদর থানার সামনে মদনহাট ও নাটোরের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে ওই মানববন্ধন করা হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান মানববন্ধনকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, আমিও এ ধরনের অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে ধর্ষণের বিচার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ বিচার যদি হতো তাহলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটতো না।
তারা বলেন, আমরা দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও আইনের মারপ্যাঁচে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কেন? আমরা শিশুটির ওপর এমন অমানুষিক ও পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাচ্ছি।
অপরদিকে ধর্ষণের শিকার হওয়া শিশুটিকে দেখতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে যান জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল হক, জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আজাহার আলীসহ সরকারি ও রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার ছাতনি ইউনিয়নের মদনহাট এলাকায় পাঁচ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন শরীফুল ইসলাম (৪৫)। পরে বুধবার (৩ জুন) রাতে অভিযুক্ত শরীফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন শিশুটির মা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই শিশুকে নিয়ে বাড়ির পাশের বিলে ঘাস কাটতে যান প্রতিবেশী এক নারী। একপর্যায়ে গরমে ক্লান্ত হয়ে শিশুটি বাড়িতে ফিরতে চায়। শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত শরীফুল ইসলাম পথে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে বাড়ির ফটকে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার পর অভিযুক্ত শরীফুল ইসলামকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন গ্রামবাসী।



