নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের ধাইজান নদীতে এক তীরের উত্তোলন করা বালু দিয়ে অপর তীরে প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে।
অন্য জায়গা থেকে বালু আনার কথা থাকলেও, ঠিকাদার নদীর এক তীরে বোমা মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়েই জিও ব্যাগ ভর্তি করে ভাঙনকবলিত স্থানে বাঁধ নির্মাণ করছেন। ফলে বাঁধটি টেকসই হওয়ার পরিবর্তে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত দুই-তিন বছর আগে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি ময়দানপাড়া ঈদগাঁহ মাঠটির উত্তর দিকে নদীর তীরে তীব্র ভাঙনের কারণে মাঠটি ধাইজান নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়। ঈদগাঁহ মাঠটির ভাঙন রোধকল্পে স্থানীয় ঈদগাঁও কমিটির লোকজন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের শরণাপন্ন হন।
সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম গত মে মাসে ঈদগাঁহ মাঠটির ভাঙনকবলিত জায়গা পরিদর্শন শেষে জরুরি ওয়ার্ক প্রকল্পের আওতায় বাঁধ নির্মাণের জন্য সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর ডিও লেটার প্রদান করেন। পরে ১০০ মিটার প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বাঁধ নির্মাণের কাজটি পান রংপুর জেলার ঠিকাদার সুজন মিয়া।
উত্তর দুরাকুটি ময়দানপাড়া ঈদগাঁহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাঁহ মাঠের উত্তর দিকে ভাঙনকবলিত জায়গায় ১০০ মিটার প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের জন্য ভাঙনকবলিত এলাকার পূর্ব দিকে ২০-৩০ মিটারের মধ্যে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ঠিকাদারের লোকজন সাংবাদিক দেখে তড়িঘড়ি করে বোমা মেশিনটি বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ সময় দেখা যায়, নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাট করা হচ্ছে।
উত্তর দুরাকুটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, আব্দুল আজিজ, আবদার রহমান জানান, নদী থেকে উত্তোলন করা বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাটের কাজ চলছে। ঠিকাদারের লোকজন তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ভরে ভেঙে যাওয়া অংশে ফেলে দিচ্ছেন। আমরা যতটুকু জেনেছি, অন্য জায়গা থেকে বালু এনে ঠিকাদার প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণ করবেন। কিন্তু তা না করে ঠিকাদার খুব সকালে ও সন্ধ্যার দিকে বোমা মেশিন দিয়ে নদীর পূর্ব দিক থেকে বালু উত্তোলন করছেন। গভীর করে খনন করার কারণে আবারো অপর বাঁধে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। তাই কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উত্তর দুরাকুটি ঈদগাঁহ মাঠ কমিটির সভাপতি খোকন মিয়া বলেন, অনেক কষ্ট করে এমপিকে দিয়ে বরাদ্দ এনেছি, কিন্তু এখন দেখছি উল্টো চিত্র। ঠিকাদারের লোকজনের কাছে কাজের স্টিমেট চাইলে তারা দিচ্ছে না। এমনকি আমাদের না জানিয়ে তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করছে। জিও ব্যাগ ভরার জন্য অন্য থেকে বালু আনার নিয়ম থাকলেও, ঠিকাদার নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।
তিনি আরো জানান, ঈগগাঁহ মাঠের ভেঙে যাওয়া অংশে মাটি দিয়ে ভরাট করার বদলে জিও ব্যাগ দিয়ে ভরাট করেছে।
সাব ঠিকাদার জুগল চন্দ্রের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির দরকার নেই। আমি আপনাদের সাথে যোগাযোগ করব।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী মাহাবুব মিয়া বলেন, আমি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ পরিদর্শন করছি। কিভাবে কাজ হবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আপনি তদারকি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।
কাজের তদারকি কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, ময়দানপাড়া ঈদগাঁহ মাঠের ১০০ মিটার প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বোমা মেশিন দিয়ে নদী থেকে খনন করা বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করার বিধান রয়েছে কি-না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাহী স্যারের সাথে কথা বলেন।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আখিনুজ্জামান বলেন, নদী থেকে খনন করা বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ তো দূরের কথা, বোমা মেশিন লাগানোর কোনো নিয়ম নেই। বাঁধে ব্যবহৃত বালু ঠিকাদারকে অন্য জায়গা থেকে পরিবহন করে নিয়ে আসতে হবে। বিষয়টি তদন্ত করে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



