গাজীপুরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্তের জয়দেবপুর সংবাদদাতা আব্দুল আজিজ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর আরপি গেট এলাকার বারুইপাড়া মৌজায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল আজিজকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জমি জবরদখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের তথ্য সংগ্রহ ও দখলদারদের পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা করায় তাকে প্রথমে প্রলোভন দেখানো হয়, পরে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়।
জানা গেছে, গত ১০ জুন স্থানীয় এক ব্যক্তি সাংবাদিক আব্দুল আজিজকে ফোন করে জানান, আরপি গেট এলাকায় বনভূমি ও সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগের সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নির্মাণাধীন স্থাপনার একটি অংশ বন বিভাগের দাগ-সংলগ্ন এলাকায় এবং অধিকাংশ জমি জেলা প্রশাসকের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য শত কোটি টাকারও বেশি। অথচ যথাযথ সীমানা নির্ধারণ ও মালিকানা নির্ধারণ ছাড়াই সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চলছিল।
অনুসন্ধানকালে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আনা হলে বন বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই দখলদার চক্রের চাপ ও তৎপরতা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি অবৈধ আর্থিক সুবিধার প্রস্তাবও দেয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দখলদার চক্র।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জমি দখলের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত রাসেল নামে এক ব্যক্তি তাকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি একটি সাজানো নাটকের মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। তার পকেটে জোর করে টাকা ঢুকিয়ে পরে তা বের করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মিথ্যা বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা করে।
কিন্তু সাংবাদিক আব্দুল আজিজ তাতে সম্মত না হলে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। একপর্যায়ে পথে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট দেখতে পেয়ে তিনি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে চেকপোস্টে আশ্রয় নেন। সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে সহকর্মী সাংবাদিকরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো: হেদায়েত উল্লাহ, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: মেরাজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুল হক অবিলম্বে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সরকারি জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: আমিনুল ইসলাম জানান, আহত সাংবাদিকের মাথায় গুরুতর আঘাত আছে। সিটি স্ক্যান রিপোর্ট পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এ ব্যাপারে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



