মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এটি অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবটির উদ্বোধন করা হবে। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উৎসব উন্মুক্ত থাকবে।
উৎসবে স্থানীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, জীবনধারা ও খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরাও বসবে মেলায়।
উৎসবকে সফল করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক (বিপণন ও ব্র্যান্ডিং) মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জিয়াউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকন, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম ও শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক।
সংবাদ সম্মেলনে সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘গত বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) কাকিয়াছড়া মাঠে প্রথমবারের মতো হারমোনি ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার বর্ষা মৌসুমে ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি স্থানে নিয়মিত এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত ২৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও উপস্থাপনা থাকবে। আগামী বছর থেকে সারাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে আরো বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম রিতা। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার। অতিথিদের স্বাগত জানাবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আব্দুর রউফ।
এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান প্রস্তুতির লাইভ প্রদর্শনী, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, হোমস্টে কার্যক্রম ও কুমার সম্প্রদায়ের মাটির জিনিসপত্র তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই এই ফেস্টিভ্যালের অন্যতম লক্ষ্য। মেলায় স্টলগুলোতে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, পোশাক ও জীবনধারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি তাদের নাচ-গান ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবেশনাও থাকবে।’
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করবে এবং দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



