উল্লাপাড়ায় ৫ কোটি টাকার ড্রেন প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু

‘প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর তদারকি থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

মো: জাকিরুল হাসান, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Ullahpara
ড্রেন পুনঃনির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান
ড্রেন পুনঃনির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান |ছবি : নয়া দিগন্ত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের থেমে থাকা কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্যামলীপাড়া কালীবাড়ী এলাকা থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ মিটার ড্রেন নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে উপজেলায় মোট ৩২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৭০০ মিটার ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই শ্যামলীপাড়া, কালীবাড়ী, পাটবন্দরসহ আশপাশের এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকত। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করত। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। অবশেষে ড্রেন নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হলে এ দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ, উল্লাপাড়া সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, উল্লাপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণ করা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকে। একইসাথে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর তদারকি থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।