চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভোজ্য ও জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান দমন এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্তজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ১৯টি বিওপি ও একটি আইসিপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৮১টি টহল পরিচালনা করছে বিজিবি।
জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার ঠেকাতে দর্শনা আইসিপি (আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট), সীমান্তবর্তী ১৪টি তেল পাম্প, সম্ভাব্য তেল পাচার রুট, চোরাচালানপ্রবণ সীমান্তপথ এবং কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পশু পাচার রুটে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব এলাকায় এ পর্যন্ত ১৮৬৩টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং ৩৪১টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ১১টি যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করতে ২১টি জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে পশু পাচার ও অন্যান্য চোরাচালান ঠেকাতে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চলতি ২০২৬ সালে নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে চারজন আসামিসহ ১৪টি স্বর্ণের বার, তিন হাজার ৮৩৭ গ্রাম রুপার বল, ২১২ লিটার ডিজেলসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য চার কোটি নয় লাখ ৪৯ হাজার ৬৮০ টাকা।
অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে একজন আসামিসহ এক হাজার ৫৪৪ বোতল মদ, এক হাজার ৪১৫ বোতল ফেন্সিডিল, ২ দশমিক ১২৮৫ কেজি হেরোইন, ২১ দশমিক ৩ কেজি গাজা, এক হাজার ৫৭৪ পিস ইয়াবা, সাত হাজার ৭৪৫ পিস ট্যাপেন্টাডল, দু’ হাজার ৮৯২ পিস ভায়াগ্রা, দু’ হাজার ৩৩২ পিস সেনেগ্রা ও ৬৩ হাজার ৩১২ পিস অন্যান্য ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য দু’ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫০ টাকা।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সন্দেহজনক চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।



