সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মেঘ মুক্ত আকাশে সূর্যের প্রখর তাপে স্বস্তি ফিরিছে হাওরের খলায় খলায়। ধান শুকাতে ঘরের উঠানে ও খলায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এছাড়াও খলায় শুকানোর জায়গা না থাকায় ব্যস্থতম সড়কে ধান শুকাচ্ছেন কৃষান-কৃষাণীসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। এত দুর্ভোগের পর ধানের ন্যায মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরের নিন্মঅঞ্চলে ডুবে থাকা জমি আর বাড়ির উঠানে স্তূপ করে রাখা পচা ধান ও খড়ের দুর্গন্ধে চারদিক যখন ভারী হয়ে উঠেছে সূর্যের দেখা না পাওয়ায়, ঠিক সেই সময়ে আকাশ বৃষ্টি সড়িয়ে হাওরে কয়েক দিন ধরে প্রখর রৌদের ঝিলিক ছড়িয়ে দেয়ায় কৃষকের মনে নতুন করে বাঁচার লড়াইয়ে সাহস যুগালেও ফসলের মূল্য পাচ্ছে না হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। সরকার এক হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও সরকারি গুদামে যে মানের ধান লাগে, এবার সে মানের ধান হাওরাঞ্চলের কৃষকের কাছে না থাকায় দালাল, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও পায়কাররা সুকৌশলে ধানের সঠিক মূল্য না দিয়ে ৬৫০ টাকা সর্বোচ্চ ৭৫০-৮০০ টাকা ধরে ধান ক্রয় করছে নানান অজুহাত দেখিয়ে আর কৃষকরা বাধ্য হয়ে বিক্রি করছে।
টাংগুয়ার হাওর পাড়ে কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, কয়েক দিন ধরে সূর্য উঠায় ধান শুকানো, পানির নিচে থাকা ধান ডুব দিয়ে কাটা আর উঁচু জমির ধান কেটে মাড়াই করা হচ্ছে। কৃষাণীরাও ঘরে ও উঠানে ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। খলায় যায়গা না থাকায় সড়কে ধান শুকাচ্ছেন।
তবে ধানের সঠিক মূল্য পাচ্ছি না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারনে গো খাদ্য (খড়) পঁচে নষ্ট হওয়ায় মহা বিপদে আছি এবছর।’
শনির হাওরের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘প্রতি বছরেই দুর্ভোগে পড়েন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারনে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টানা বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে রৌদ উঠায় ধান শুকাতে পারছি। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছি না দালাল, পায়কার ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীর কাছে। তারা নানান অজুহাত দেখিয়ে ধানের দাম কম বলছে। আর বাধ্য হয়ে সাতশ থেকে আটশ টাকা ধরে বিক্রি করছি। বিক্রি না করলে চলতে পারবো না।’
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাওরের ৮৩ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। সময় গেলে প্রকৃত ক্ষয় ক্ষতির চিত্র আসবে তার জন্য আরো সময় লাগবে। এবছর উপজেলার ১৭ হাজার ৫০৯ হেক্টরের বেশী জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রায় এক লাখ টন ধান উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য ৩০০ কোটি টাকা ধান উৎপাদন হবে। আজ শনিবার ৭৮ ভাগ কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টিতে ১৬৭৬ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।



