ঢাকার সাভারে পারিবারিক কলহের জেরে মার্জনা বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ফয়সালকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের শ্বশুর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ নয়া দিগন্তকে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে জানান, আটক ফয়সাল থানা হেফাজতে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে, বুধবার দুপুরে উলাইল কর্ণপাড়া এলাকার বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মার্জনা বেগম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার পূর্ব মাদরাসা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাজহারুল ইসলামের মেয়ে।
জানা যায়, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ রইদের হাটবাজার এলাকার তৌসির আহমেদের ছেলে ফয়সালের সাথে পারিবারিকভাবে মার্জনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সাভারের উলাইল কর্ণপাড়া এলাকার একটি মসজিদ সংলগ্ন ভাড়া বাসায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। ফয়সাল এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের মামা মোহাম্মদ মাসুদ জানান, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ফুটবল খেলা দেখার পর তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ফয়সাল মার্জনার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
পরে মার্জনার শ্বশুর ভোরে পরিবারকে ফোন করে জানায় মার্জনা গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত বাসায় এসে মার্জনার লাশ এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দেয়া হলে সাভার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামী ফয়সালকে আটক করেন।
সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ আরো জানান, এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।


