নয় দিনের মাথায় আবারো প্রকাশ্য দিবালোকে এক কলেজ ছাত্রীকে আটকে ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ছিনতাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। নয় দিনের ব্যবধানে চাঞ্চল্যকর দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ।
ছিনতাই নিয়ে মন্ত্রী, সিসিক প্রশাসক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিনতাইকারীরা। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাগরদিঘীর পাড় এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শুক্রবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক নারীকে পালসার মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক ঘেরাও করেন। যুবকদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র। তারা ওই নারীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করার চেষ্টা করেন। ওই নারী ব্যাগ-মোবাইল-অলঙ্কার দিতে রাজি হচ্ছেন না। ছিনতাইকারীদের সাথে টানাটানি করছেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা নারীর হাতে অস্ত্র দিয়ে কয়েকবার আঘাতও করেন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ছিনিয়ে না নিলেও হাতঘড়ি নিয়ে দ্রুত বাইক নিয়ে চলে যান ছিনতাইকারীরা। ওই নারী সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই সিসিটিভি ফুটেজও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাচ্ছিল। তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটোরিকশার ভেতরে থাকা নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানি করেন। কিছুক্ষণ টানাহেচড়ার পর ব্যাগটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা চলে যান। এ সময় অটোরিকশা থেকে নেমে এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ওই নারী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা ব্যাগে থাকা তার টাকা ও চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিনিয়ে নেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সাগরদিঘীর পাড়ের ঘটনায়ও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক মদদ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
যদিও শুক্রবার সিলেট-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার সিলেটে এসে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার ও ছিনতাই বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যারা অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে।’
ঐ অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শান্তির সিলেট চাই। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে কি-না, সে বিষয়টিও দেখা হবে।’
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের টহল এবং নজরদারিও বৃদ্ধি করা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
হাউজিং এস্টেটের ঘটনার ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তারা নগরের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের গ্রেফতারেরে চেষ্টা চলছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, ‘সাগরদিঘীর পাড়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। ওই নারীর সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। ছিনতাইকারীরা কিছু নিতে পারেনি, তাই তিনি মামলা করবেন না। তবু ছিনতাইকারীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা ছাড় পাবে না। আমার থানা এলাকায় ছিনতাইকারীর চিহ্ন রাখব না।’


