হাড় কাঁপানো শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের জনপদ। জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার।
কুড়িগ্রামে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় মারাত্মক শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হচ্ছে। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। বিশেষত চর এলাকাগুলোতে জনজীবন বিপর্যস্ত, শিশুরা ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছে ও কর্মহীনতা বাড়ছে।দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করছেন।
রিকশা চালক জামাল হোসেন বলেন, ‘এই ঠান্ডাত (শীতে) মেলাগুলা (অনেক) ঠান্ডার (শীতের) কাপড় পরিয়াও (পরিধান করে) ঠান্ডা যায় না। ভাড়ার জন্য বিয়ান বেলা (সকালে) বাইর হছি (বের হলেও) কোনো ভাড়া পাবার নাকছি (পাচ্ছি) না, ঠান্ডাত বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’
দিনমজুর চাঁদ মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ফজর নামাজ আদায়ের পর চুক্তি ভিত্তিক মাটি কাটার কাজে যাই। তবে আজ শিরশিরি বাতাস আর ঘন কুয়াশায় প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। শীত সইতে না পেরে আজ মাটি কাটার কাজ বাদ দিয়ে সবাই বাড়িতে যাচ্ছি। এমন শীতে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বুধবার (৭ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামী কয়েক দিন এই তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন এনজিও, সামাজিক সংস্থা শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম।



