শিবচরে অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ১২ দোকানকে জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং এক কর্মচারীকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Madaripur
ভদ্রাসন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
ভদ্রাসন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের শিবচরের ভদ্রাসন ইউনিয়নের ভদ্রাসন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং এক কর্মচারীকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানে ১২টি দোকানকে জরিমানা করা হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিবচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাইখা সুলতানা।

অভিযান চলাকালে অর্পিত সরকারি সম্পত্তিতে আগের একাধিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে প্রশাসনের নজরে আসে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্মাণকাজ বন্ধ করে অবৈধ অংশ অপসারণের নির্দেশ দেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিয়ে জানানো হয়, সরকারি সম্পত্তি দখল বা অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই সময়ে বাজার তদারকিকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, পণ্যের সঠিক ওজন না দেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ নানা অভিযোগে ১২টি দোকানকে সর্বমোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া একটি বেকারির এক কর্মচারীকে ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানানো হয়, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।

অভিযানের সময় বাজারের কয়েকটি মিষ্টির দোকানে প্যাকেটসহ ওজন করে মিষ্টি বিক্রির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যবহৃত প্যাকেটগুলোর ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত বেশি। ফলে ক্রেতারা প্রকৃত মিষ্টির ওজনের চেয়ে কম পণ্য পাচ্ছিলেন।

প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে, এভাবে একটি দোকান বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে। বিষয়টি ভোক্তাদের সাথে সরাসরি প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিবচর উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাইখা সুলতানা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্যাকেটসহ মিষ্টি ওজন করে বিক্রি করা যাবে না। প্রথমে খালি পাত্রের ওজন নির্ধারণ করতে হবে, এরপর নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী মিষ্টি বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখল কিংবা ভোক্তাদের ঠকানোর কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।’

প্রশাসনের এ অভিযানে বাজারে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। অনেক ব্যবসায়ী ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন।