জমি লিখে না দেয়ায় শ্বশুরকে হত্যা : পুত্রবধূসহ গ্রেফতার ৩

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দাফন করার প্রস্তুতি দেখতে পায়। তবে লাশের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখে সন্দেহ হওয়াতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
হত্যা মামলায় গ্রেফতার রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম
হত্যা মামলায় গ্রেফতার রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুর মোহাম্মদ আলীকে (৭৫) হত্যা করিয়েছেন পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮)। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। এর আগে, শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রাম থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— নিহত মোহাম্মদ আলীর পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), পার্শ্ববর্তী হাবিবনগর গ্রামের রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)।

পুলিশের দাবি, হোসনা বেগম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুত্রবধূর সাথে মনোমালিন্যের কারণে নিজগৃহে একাই বসবাস করতেন মোহাম্মদ আলী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তিনি রাত ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। সকালে উঠে পরিবারের অন্যান্য লোকজন তাকে মৃত দেখে পুলিশে খবর দেয়।

পরে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দাফন করার প্রস্তুতি দেখতে পায়। তবে লাশের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখে সন্দেহ হওয়াতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুত্রবধূ হোসনা বেগম তড়িঘড়ি করে শ্বশুরের দাফন সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন।

পরে নিহতের স্বজনদের অভিযোগে পুত্রবধূ হোসনা বেগমকে সন্দেহজনকভাবে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাধে হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোসা: আছমা বেগম (২৬) দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করছিলেন। তার জমি পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরো বলা হয়, হোসনা বেগম তার দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। পরে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’