বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হাওলাদার উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) -এর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। অপরদিকে একই সময়ে সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমতলী চৌরাস্তা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শনিবার সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের কিছু নেতাকর্মী মালিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল আকনের ওপর হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিল্টন হাওলাদার অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে মাসিক এক হাজার টাকা ও দৈনিক ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, শনিবার দুপুরে এ চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করলে রাহাত ফকিরসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং একটি অটোরিকশা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল আহমেদ খান, সদস্য সামসুল হক চৌকিদার এবং অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাসেল আকনসহ অন্যরা।
অপরদিকে একই ঘটনায় বিচার দাবিতে দুপুরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। চালক ফরহাদ সিকদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে রাসেল হাওলাদার ও সাকিল খানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, মালিক সমিতির নেতারা প্রতিটি অটোরিকশা থেকে দৈনিক একশো টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন, যা চালকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন জানান, একটি মীমাংসিত বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তারা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিও পালন করছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



