টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচ হাজার টাকা ধার না পেয়ে নানী বেদেনা কোচকে (৬৫) হাতুড়ি ও দা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে নাতি নয়ন কোচ (১৬)। ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হত্যার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বেদেনা উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে নয়ন কোচ নানীর কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেয়ায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকে রাতে তিনি নানীর বাড়িতে যান।রাত ৯টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ কালিদাস বাজারে গেলে নয়ন বাড়িতে প্রবেশ করেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে বেদেনা কোচ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দা দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ঘরে রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি ফেলে পালিয়ে যান নয়ন।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরেশ চন্দ্র কোচ বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে বুধবার সকাল ৮টার দিকে সখীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে নয়ন কোচকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং একই গ্রামের শ্যামল কোচের ছেলে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, নানী তার সাথে প্রায়ই খারাপ আচরণ করতেন।
এ ঘটনায় বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদি হয়ে নাতিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার আগেই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।



