সিমাগো ইনস্টিটিউশন র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা মাভাবিপ্রবি

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ ধরনের অর্জন গর্ব করার মতো। ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরেই র‌্যাঙ্কিং সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিলাম। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান গবেষণা, উদ্ভাবন ও অন্যান্য সূচকে আরো এগিয়ে আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ও ভবিষ্যতে আরো উন্নয়নের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। এই অর্জনটিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেশ ইতিবাচক দিক।’

মেহেদী হাসান খান সিয়াম, মাভাবিপ্রবি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

স্পেনের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশন ২০২৬-এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা অনুযায়ী, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)।

শনিবার (২৮ফেব্রুয়ারি) সিমাগো ওয়েবসাইটে থেকে এ তথ্য জানা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এবার দেশসেরা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ হাজার ৮২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে এবারের তালিকায়। এতে বাংলাদেশের মোট ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকা অনুযায়ী যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সেরা দশে স্থান পেয়েছে— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২০২৫ সালের সিমাগো র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, দেশের সেরা দশ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল যথাক্রমে চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে, ২০২০ সালে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করলেও গতবছর পিছিয়ে ষষ্ঠতে নেমে যায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ২০২৪ সালে পঞ্চম, ২০২৩ সালে নবম, ২০২২ সালে অষ্টম, ২০২১ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি।

গবেষণা, সামাজিক প্রভাব ও উদ্ভাবন এ তিনটি সূচকের ফলাফল পর্যালোচনা করে এই র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ তিনটি সূচকের ফলাফল অনুযায়ী আলাদা র‌্যাঙ্কিংও একসাথে মিলিয়ে সার্বিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে থাকে। সার্বিক র‌্যাঙ্কিং করার জন্য গবেষণায় ৫০ শতাংশ, উদ্ভাবনে ৩০ শতাংশ ও সামাজিক প্রভাবে ২০ শতাংশ মিলিয়ে সার্বিক র‌্যাঙ্কিং করা হয়।

সিমাগো ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং-২০২৬ অনুযায়ী গবেষণা, সামাজিক প্রভাব ও উদ্ভাবন তিনটি সূচকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেশে যথাক্রমে ১৬তম, ৩২তম ও ৪র্থ। সার্বিক অবস্থান দেশে প্রথম।

গতবছর তিনটি সূচকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাভাবিপ্রবির অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১৯তম, ১১তম ও ৯ম। সে অনুযায়ী এবার গবেষণা ও উদ্ভাবনে উন্নতি হলেও সামাজিক প্রভাবে গত বছর থেকে বেশ পিছিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালিটি রিভিউ ও রাঙ্কিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, ‘এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার। আমরা সম্মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।’

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ ধরনের অর্জন গর্ব করার মতো। ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরেই র‌্যাঙ্কিং সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিলাম। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান গবেষণা, উদ্ভাবন ও অন্যান্য সূচকে আরো এগিয়ে আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ও ভবিষ্যতে আরো উন্নয়নের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। এই অর্জনটিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেশ ইতিবাচক দিক।’

তিনি বলেন, ‘এর আগেও ২০২০ সালে মাভাবিপ্রবি সিমাগো র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম হয়েছিল। পরে একটু পিছিয়ে পড়লেও আবার উন্নতি ঘটেছে। একই সাথে ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ও কিউএস ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়েও মাভাবিপ্রবির নাম রয়েছে। এছাড়া মাভাবিপ্রবিকে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের নানা রকম সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।’

ভিসি আরো বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের কোর্স ও ক্রেডিট সংখ্যা প্রায় সমান হলেও ফ্যাকাল্টি মেম্বারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে গবেষণা ও শিক্ষার মান আরো উন্নত করা যায়।’