ঘিওরে ৩ ইউনিয়নে নেই নিজস্ব ইউপি ভবন, সেবায় ভোগান্তি

এসব ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী ভবন ও ডিজিটাল কমপ্লেক্স না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার সেবাগ্রহীতা।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
পরিত্যক্ত ঘোষণা করা বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন
পরিত্যক্ত ঘোষণা করা বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন |নয়া দিগন্ত

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তিনটিতেই নেই কোনো স্থায়ী ভবন। এ তিনটির একটিতে আগে ভবন থাকলেও ২৫ বছর আগে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘিওর সদর ও নালি ইউনিয়ন পরিষদের নেই কোনো নিজস্ব ভবন। এছাড়া বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ২০০১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম।

এসব ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী ভবন ও ডিজিটাল কমপ্লেক্স না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার সেবাগ্রহীতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবন না থাকায় এসব ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সভা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ভাতা কার্যক্রম, কৃষি প্রণোদনা, গ্রাম্য আদালতের কার্যক্রমসহ নানা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। একইসাথে গুদামঘর না থাকায় টিআর, জিআর, ভিজিএফ, ভিজিডির মতো সরকারি সহায়তা সংরক্ষণ ও বিতরণেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

পরিত্যক্ত ঘোষণা করা বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটির ভবনের ছাদ ভেঙে রড বের হয়ে গেছে, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বৃষ্টির সময় পানি চুইয়ে পড়ে।

অপরদিকে নালি ইউনিয়নে ১৯৭৩ সাল থেকে অস্থায়ী টিনের ঘরে পরিচালিত হচ্ছে সকল কার্যক্রম, যা বর্তমানে ব্যবহারের জন্য প্রায় অযোগ্য।

ঘিওর সদর ইউনিয়ন পরিষদের জমি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এতে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো: অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘জমি জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অফিস পরিচালনা ও জনসেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত স্থায়ী ভবন নির্মাণ জরুরি।’

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম জানান, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ও ডিজিটাল কমপ্লেক্স না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জমির জটিলতা নিরসন করে আধুনিক ইউপি ভবন নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।